বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব হারাবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে এনসিপিকে আসন ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পেছনে জামায়াতের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।
বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান এসব মন্তব্য করেন।
পোস্টে তিনি দাবি করেন, সাংগঠনিক সক্ষমতার তুলনায় এনসিপিকে বেশি আসনে প্রার্থী দেওয়া এবং নির্বাচনী ব্যয়ে সহায়তা করার মাধ্যমে জামায়াত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন কর্মকাণ্ডের দায় থেকে নিজেদের মুক্ত করার চেষ্টা করেছে। তবে এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সেই দায় মুছে ফেলা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাশেদ খান আরও বলেন, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ছায়া সরকারে এনসিপির অবস্থান না থাকায় ভবিষ্যতে দলটি প্রকৃত সরকারেও একইভাবে বাইরে থাকবে। তার ভাষ্য, রাজনৈতিক সমীকরণে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির সম্পর্ক যতই ঘনিষ্ঠ হোক, ক্ষমতার কাঠামোয় এনসিপির জায়গা নিশ্চিত নয়।
জামায়াতের নেতাদের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। তিনি বলেন, ছায়া সরকার গঠনের পর দলটির নেতারা রাষ্ট্র পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণ নিয়ে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবেন এমন প্রত্যাশা রয়েছে।
তবে গুমসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যাচাইহীন তথ্য বা অপপ্রচার চালানো হলে জনগণের মধ্যে ছায়া সরকার নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
নারী নেতৃত্বের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খান প্রশ্ন তোলেন, জামায়াত ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে নারীদের মন্ত্রিসভায় কতটা প্রতিনিধিত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই জাতীয় সনদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নারী প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে জামায়াত যথেষ্ট ভূমিকা রাখেনি।
অন্যদিকে, বিএনপি নির্বাচনের আগেই নারী প্রার্থী মনোনয়নের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং সরকারে দায়িত্ব নেওয়ার পরও ওই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে বলে দাবি করেন রাশেদ খান।
সদ্য সংবাদ/এসএস