এশিয়ান গেমসে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি পিটার বাটলারের দল। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছে ১০-০ গোলে।
নারী ফুটবলে বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় ব্যবধানে পরাজয়। এর আগে ২০১৩ সালে থাইল্যান্ডের কাছে ৯-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ ১৩ বছর পর সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেল নতুন এই হার।
ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের ওপর চেপে বসে উত্তর কোরিয়া। মাত্র পাঁচ মিনিটেই জন রয়োং জংয়ের গোলে এগিয়ে যায় তারা। পাঁচ মিনিট পরই একই খেলোয়াড় নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
এরপর একের পর এক আক্রমণে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে উত্তর কোরিয়া। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই আরও পাঁচবার বাংলাদেশের জালে বল পাঠায় তারা। ফলে বিরতিতে ৭-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।
দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতি বদলানোর কোনো সুযোগ পায়নি বাংলাদেশ। ৫১ মিনিটে রাই সং এবং ৬০ মিনিটে জং জুম গোল করেন। ম্যাচের শেষ দিকে আরও দুই গোল যোগ করে উত্তর কোরিয়া। শেষ পর্যন্ত ১০-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।
এই ম্যাচে কোচ পিটার বাটলার একাধিক তরুণ খেলোয়াড়কে সুযোগ দেন। নিয়মিত একাদশের ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, শিউলি আজিম ও শামসুন্নাহারকে শুরুতে বেঞ্চে রাখা হয়। তাদের পরিবর্তে মোমিতা খাতুন, অর্পিতা বিশ্বাস ও সুরভী আফরিনদের নিয়ে একাদশ সাজানো হয়।
তবে উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে ঋতুপর্ণা ও মনিকাসহ কয়েকজন নিয়মিত খেলোয়াড় মাঠে নামলেও তখন ম্যাচ অনেকটাই বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এশিয়ান গেমসের ‘এফ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সামনে এখন দক্ষিণ কোরিয়া। আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে বড় হারের পর সেই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য।
সদ্য সংবাদ/এসএস