ভারতের এমন সক্রিয় কূটনৈতিক বার্তা দেশটির শীর্ষ গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে। একইসঙ্গে আলোচনায় এসেছে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র প্রতিক্রিয়াও।
ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা অনলাইনের প্রধান শিরোনামে প্রকাশ করে—‘নৌকাবিহীন ভোটে বাংলাদেশের আস্থা চেনা ধানের শিষের উপর…’।
একই পত্রিকায় জামায়াতের ফলাফল নিয়েও বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়। পাশাপাশি মোদির অভিনন্দনবার্তা ও যুক্তরাষ্ট্রের শুভেচ্ছার খবরও গুরুত্ব পায়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি-র শুভেচ্ছাবার্তাও পৃথক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়, যেখানে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক জোরদারের ইঙ্গিতের কথা উল্লেখ করা হয়।
নির্বাচনের দিন বিকেলে ও পরদিনও শেখ হাসিনার বক্তব্য আলাদা করে প্রকাশ করে ভারতীয় কয়েকটি গণমাধ্যম। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ দাবি করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
দৈনিক আজকাল শিরোনাম করে—‘এপার-ওপার সুসম্পর্কের বার্তা…’, যেখানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-র শুভেচ্ছা বার্তাও তুলে ধরা হয়।
অন্যদিকে 'হিন্দুস্থান টাইমস' বাংলা-তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার ভোট প্রত্যাখ্যানের বক্তব্য এবং মোদির বার্তার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করা হয়।
দ্য স্টেটমেন্ট-এর বাংলা সংস্করণে বিএনপির এগিয়ে থাকার খবর সমান গুরুত্বে প্রকাশিত হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, এ ফলাফল বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সংবাদ প্রতিদিন ‘প্রত্যাবর্তনেই পরিবর্তন’ শিরোনামে ব্যানার প্রতিবেদন প্রকাশ করে। একইসঙ্গে চীনের পক্ষ থেকে ‘একসঙ্গে কাজ করার’ বার্তাও আলাদা প্রতিবেদনে স্থান পায়।
এ ছাড়া 'টাইমস অব ইন্ডিয়া' অনলাইনে মোদি-তারেক ফোনালাপকে গুরুত্ব দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, নরেন্দ্র মোদি শান্তি ও অগ্রগতির লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
'দ্য হিন্দু' নির্বাচনের পরদিনও লাইভ আপডেট দেয় এবং বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেক রহমানের উত্থানকে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে। পাশাপাশি ইন্ডিয়া টুডেও বিএনপির জয়, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এবং ভারতের অবস্থান নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
সার্বিকভাবে দেখা যায়, বাংলাদেশের নির্বাচনে বিএনপির বিজয়কে ভারতীয় গণমাধ্যম গুরুত্বের সঙ্গেই তুলে ধরেছে। বিশেষত নরেন্দ্র মোদির দ্রুত শুভেচ্ছা ও টেলিফোনালাপকে ইতিবাচক কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান ও চীনের বার্তাও আঞ্চলিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে।