স্মৃতির দর্পণ ও শুদ্ধতার ঈদ
ঈদের সকাল কেবল উৎসবের আমেজ নয়, বরং আত্মার পরিশুদ্ধি ও জীবনদর্শনের এক অনন্য আলোকবর্তিকা। একদিকে ইদগাহের একই কাতারে দাঁড়িয়ে সাম্যের শিক্ষা নেওয়া, অন্যদিকে শৈশবের সেই হারিয়ে যাওয়া ঈদকার্ড আর রঙিন স্মৃতির মায়াবী টান—এই দুইয়ের মোহনায় ঈদ পূর্ণতা পায়।
সাইফ আহমেদ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ডিভিএম, ২০২২-২৩ সেশন
ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই মুসলিম সংস্কৃতি
প্রতিবছর ঈদ এলেই এক অন্যরকম উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কলকারখানা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অফিস-আদালত পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামের পথে, আপনজনের কাছে, শেকড়ের টানে ছুটে যায়। কেউ ট্রেনে, কেউ বাসে, কেউবা বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসে—সবই পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য।
দীর্ঘদিন পর পরিবার-পরিজনের সঙ্গে দেখা হওয়ার আনন্দ সত্যিই অসাধারণ। ঈদ মানুষকে কাছে আনে, মন থেকে দূর করে দেয় শত্রুতা, হিংসা ও বিদ্বেষ। ঈদের দিন এক পরিবার আরেক পরিবারের বাড়িতে বেড়াতে যায়, একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করে। ছোট ভাই যায় বড় ভাইয়ের বাসায়, ভাগ্নে যায় মামার বাড়িতে, আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে মধুর সম্পর্ক আরও গভীর হয়।
ঈদের সবচেয়ে আনন্দের একটি অংশ হলো ছোটদের ঈদি বা সালামি পাওয়া। ছোটরা আগ্রহ নিয়ে বড়দের কাছে সালামি চায়, আর বড়রাও আনন্দের সঙ্গে তা দেয়। এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই ঈদের আনন্দকে আরও বর্ণিল করে তোলে।
ঈদ শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি মুসলিম সমাজের মিলনমেলা। বছরে কয়েকটি দিন সবাই কাজের ব্যস্ততা দূরে সরিয়ে রেখে একসঙ্গে সময় কাটায়, ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য ভাগ করে নেয়—এটিও আমাদের মুসলিম সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বর্তমানে ঈদের আনন্দ আরও বেড়ে গেছে নানা আয়োজনের মাধ্যমে। যেমন—চাঁদ রাতের মেহেদী অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক আয়োজন, পরিবারকেন্দ্রিক মিলনমেলা ইত্যাদি। তবে চাঁদ রাতে আতশবাজির মতো কিছু অনুচিত কাজ থেকে আমাদের বিরত থাকা উচিত।
ঈদ মুসলিম উম্মাহর মধ্যে আন্তরিকতা, মহব্বত ও ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি করে। এটি মানুষকে নতুনভাবে জীবন শুরু করার অনুপ্রেরণা দেয়। শিশুরা পায় নতুন আনন্দ, বড়রা পায় সম্পর্ক নবায়নের সুযোগ, আর সমাজ পায় ঐক্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ঈদ না থাকলে আমাদের জীবনের আনন্দ অনেকটাই কমে যেত। মুসলিম সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও দুর্বল হয়ে পড়ত। প্রতি বছরের এই আনন্দঘন মিলনমেলা না থাকলে সমাজে অপসংস্কৃতির প্রভাব আরও বাড়তে পারত।
সুতরাং, ঈদের আনন্দ আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে ভাগাভাগি করি, ভালোবাসা ছড়িয়ে দিই, এবং আমাদের সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করি।
ফুরকান উদ্দিন, চবি, রসায়ন বিভাগ,২০২২-২৩ সেশন
স্মৃতিতে ঈদ: সোনালি অতীত ও ধূসর বর্তমান
শৈশবের ঈদ মানেই ছিল চাঁদ দেখার উন্মাদনা, নতুন জামা লুকিয়ে রাখা আর ঈদকার্ডের রঙিন বিনিময়—যা আজ কেবলই রূপকথার মতো এক সোনালি অতীত। বড় হওয়ার সাথে সাথে সেই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস এখন ঘরকুনো ভিডিও কল আর যান্ত্রিক জীবনের এক চিলতে অবসরে বন্দি।
আজমুল আরাফাত,জবি,ভুতত্ত্ব ও পরিবেশ বিভাগ,২০২২-২৩ সেশন
ত্যাগের মহিমায় সম্প্রীতির ঈদ
উৎসবের আনন্দ পূর্ণতা পায় যখন সেখানে ভাগ করে নেওয়ার উদারতা থাকে। একদল মানুষ যখন আপনজনের টানে ঘরে ফেরে, অন্যদল তখন দেশ ও দশের নিরাপত্তায় অতন্দ্র প্রহরী হয়ে সীমান্তে বা রাজপথে ঈদ বিলিয়ে দেয়—এই নিঃস্বার্থ ত্যাগই ঈদের প্রকৃত শিক্ষা।
মাহিদ হাসান, ঢাবি, মার্কেটিং বিভাগ, ২০২২-২৩ সেশন
হৃদয়ের ক্যানভাসে ঈদ: শিকড় ও সাম্যের সুর
দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর নিয়ে আসে আত্মিক প্রশান্তি ও সম্প্রীতির অমল বার্তা। শিল্পীর তুলিতে যেমন সাম্যের আলপনা আঁকা হয়, ঈদের উৎসবও তেমনি ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ ভুলে ভালোবাসার মেলবন্ধন শেখায়।
আবু সাইম, জাবি, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, ২০২২-২৩ সেশন
ঈদ :কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার প্রতিচ্ছবি
ঈদুল ফিতর আমার কাছে শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার এক অনন্য উপলক্ষ। এক মাসের সিয়াম সাধনার পর ঈদ আমাদের আত্মসংযম, ধৈর্য ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ততার মাঝে এই সময়টি পরিবারে ফিরে যাওয়ার, প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর এবং সম্পর্কগুলোকে আরও গভীর করার সুযোগ এনে দেয়।
আব্দুর রাহিম পাটোয়ারী, নোবিপ্রবি,ফার্মেসী বিভাগ, ২০২২-২৩ সেশন