সম্প্রতি এনডিটিভির এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কিউবা নীতি আরও কঠোর হয়েছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের কট্টরপন্থি নীতিনির্ধারকদের লক্ষ্যও স্পষ্ট, হাভানার ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ।
নেতৃত্ব সংকট নয়, বরং কাঠামোগত স্থিতিশীলতা
ভেনিজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপের পর প্রেসিডেন্ট মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী দায়িত্ব নেন। কিন্তু কিউবায় বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ কানেল কিংবা সাবেক নেতা রাউল কাস্ত্রো, কারও ক্ষেত্রেই এমন সুস্পষ্ট উত্তরসূরি কাঠামো নেই, যা দ্রুত ক্ষমতার পালাবদলকে সহজ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিউবার নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কাঠামো দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত ও কঠোর। ফলে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির উত্থান সেখানে খুব সহজ নয়।
বিরোধী নেতৃত্বের ঘাটতি কিউবার বড় পার্থক্য
ভেনিজুয়েলায় বিরোধী নেতা মারিয়া করিনা মাচাদোর মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত রাজনৈতিক মুখ রয়েছে। কিন্তু কিউবায় কার্যকর ও জনপ্রিয় কোনো সংগঠিত বিরোধী নেতৃত্ব নেই—এটাই বড় পার্থক্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া কিউবার ভেতরে শাসক পরিবারের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তির সম্ভাব্য কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা হলেও তা এখনো আনুষ্ঠানিক বা রাজনৈতিক বাস্তবতায় রূপ নেয়নি।
কিউবার সামরিক ও বৈদেশিক সম্পর্কের বাস্তবতা
বিশ্লেষকদের মতে, কিউবার সামরিক বাহিনী আদর্শিকভাবে ঐক্যবদ্ধ এবং দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। একই সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকায় প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা সক্ষমতাও তুলনামূলকভাবে উন্নত।
তবে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর কিউবার সবচেয়ে বড় সহায়তাকারী শক্তির প্রভাব আগের মতো শক্তিশালী নেই।
অর্থনীতির দুর্বলতা ও যুক্তরাষ্ট্রের সীমিত লাভ
কিউবার অর্থনীতি মূলত রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত এবং বড় কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ নেই, যা ভেনিজুয়েলার সঙ্গে বড় পার্থক্য তৈরি করে। অন্যদিকে ভেনিজুয়েলা তেল সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়ায় সেখানে মার্কিন বাণিজ্যিক স্বার্থ তুলনামূলক বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, কিউবায় পরিবর্তন ঘটলেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক লাভ সীমিত।
আইনি ও কৌশলগত বাধা
১৯৯৬ সালের ‘হেলমস-বার্টন অ্যাক্ট’-এর কারণে কিউবার ওপর মার্কিন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সহজ নয়। গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের শর্ত পূরণ না হলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুযোগও সীমিত।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের কিউবা নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন মার্কো রুবিও, যিনি দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, ভেনিজুয়েলার তুলনায় কিউবায় রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাঠামো, বিরোধী শক্তির দুর্বলতা, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং আইনি জটিলতা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আলাদা। ফলে বাইরের চাপ বাড়লেও কিউবা দ্রুত ভেনিজুয়েলার মতো সংকটে পড়বে—এমন সম্ভাবনা এখনো সীমিত।