রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে অবস্থান নেওয়া ইনকিলাব মঞ্চকে ছত্রভঙ্গ করতে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্যের বরাত দিয়ে সরকার এ কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সংস্থাটির কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা ও আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমদিকে কোনো ধরনের বল প্রয়োগ করেনি।
পরিস্থিতি তখন জটিল হয়ে ওঠে, যখন শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে পড়ে। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ওই সময় কোনো ধরনের গুলি ছোড়া হয়নি।
জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে, এ সময় কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আহতদের শরীরে গুলির আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন, তাঁদের কারও শরীরে গুলির আঘাত পাওয়া যায়নি।
সরকার পুনরায় জানায়, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আগামী রোববার সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে।
বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উঠেছে, তা সঠিক নয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে সরকার সবাইকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ এই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ, এবং বহু বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে দেশে উপস্থিত হয়েছেন।
সরকার দেশের সব নাগরিকের প্রতি একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার আহ্বান জানায়। আসন্ন নির্বাচনকে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে সরকার বলেছে, দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই সুযোগ জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের সার্বিক অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্যে কোনো ধরনের বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার বিশ্বাস করে, সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য ও মর্যাদাপূর্ণ গণতান্ত্রিক নির্বাচন সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব।