যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার বাড়ানোর পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীরা ফেডের নতুন সিদ্ধান্তের প্রভাব বিশ্লেষণ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনাও হিসাব করছেন। এর মধ্যেই কমেছে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, যা স্বর্ণের বাজারেও প্রভাব ফেলছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগে বুধবার স্বর্ণের দাম প্রায় ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল। পরদিন বাজারে আবার ধাতুটির দাম বাড়তে শুরু করে।
রয়টার্সের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ মান সময় ৮টা ৪৮ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৩১২ দশমিক ৫ ডলারে ওঠে। এর আগে বুধবার স্বর্ণের দাম প্রায় ছয় সপ্তাহের সর্বনিম্নে নেমেছিল। একই সময়ে ডিসেম্বর ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৫১ ডলারে নেমে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ফেডের সুদহার বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি বাজারে আগে থেকেই অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। ফলে সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর বিনিয়োগকারীরা নতুন করে তাদের অবস্থান সমন্বয় করছেন। পাশাপাশি মার্কিন ডলারের দর সাত সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কিছুটা কমে আসায় ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের কাছে তুলনামূলক আকর্ষণীয় হয়েছে।
বুধবার ফেডারেল রিজার্ভ ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদহার বাড়িয়ে নীতিগত সুদহার ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশে উন্নীত করেছে। এটি তিন বছরের বেশি সময়ের মধ্যে ফেডের প্রথম সুদহার বৃদ্ধি। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারকদের বড় অংশ চলতি বছর আরও অন্তত এক দফা সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। ১৮ জন নীতিনির্ধারকের মধ্যে ১৬ জনই বছরের শেষ নাগাদ অন্তত আরও ২৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছেন।
সাধারণত সুদহার বাড়লে সুদ থেকে আয় করা সম্পদের আকর্ষণ বাড়ে, ফলে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের চাহিদায় চাপ তৈরি হতে পারে। তবে একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করেন অনেক বিনিয়োগকারী। বর্তমান বাজারে এই দুই বিপরীত প্রভাবই কাজ করছে।
এদিকে তেলের বাজারেও এসেছে স্বস্তির খবর। সৌদি আরব ওমানের মাধ্যমে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে- এমন খবরের পর তেলের দাম আরও কমেছে। সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমায় জ্বালানি বাজারে চাপও হ্রাস পেয়েছে।
বাজারে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। এসব অনিশ্চয়তা স্বর্ণের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে চাহিদাকে প্রভাবিত করতে পারে।
অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও বৃহস্পতিবার ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৩ দশমিক ৮৩ ডলারে ওঠে। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৭২ দশমিক ১৯ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৯১ দশমিক ৮৯ ডলারে দাঁড়ায়।
সব মিলিয়ে, ফেডের সুদহার বৃদ্ধি, ভবিষ্যতে আরও কড়াকড়ির সম্ভাবনা, ডলারের ওঠানামা এবং তেলের দামের পরিবর্তন- এই কয়েকটি বিষয়ই এখন বিশ্ববাজারে স্বর্ণের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে