আমির খসরুর প্রথম বাজেট: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার নতুন অধ্যায়

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:৩২
উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে ধীরগতি, ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির চ্যালেঞ্জের মধ্যেই নতুন সরকারের প্রথম জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দেশের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, অর্থনীতিবিদ এবং সাধারণ মানুষের দৃষ্টি এখন এই বাজেটের দিকে। নতুন সরকারের অর্থনৈতিক দর্শন কী হবে, আগামী দিনে অর্থনীতি কোন পথে এগোবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর কী প্রভাব পড়বে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে এবারের বাজেটে।

দীর্ঘদিন ধরেই আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মুক্তবাজার অর্থনীতি, বেসরকারি খাতের বিকাশ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির পক্ষে কথা বলে আসছেন। তাই তার প্রথম বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উৎপাদনমুখী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো তরুণদের কর্মসংস্থান। প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও সেই তুলনায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। এই বাস্তবতায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই), তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং রপ্তানিমুখী খাতে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রদান এবং স্টার্টআপ উদ্যোগে সরকারি সহায়তা বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

বেসরকারি বিনিয়োগকে গতিশীল করা নতুন সরকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হতে পারে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাস এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা। অর্থনীতিবিদদের মতে, টেকসই কর্মসংস্থান এবং উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য বিনিয়োগের বিকল্প নেই।

অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ মূল্যস্ফীতি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এবারের বাজেটে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির চাপ কমানোর কার্যকর উদ্যোগ দেখা যেতে পারে।

ব্যাংকিং খাতের সংস্কারও সময়ের অন্যতম দাবি। খেলাপি ঋণ, আর্থিক অনিয়ম এবং সুশাসনের ঘাটতি দীর্ঘদিন ধরে দেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে রেখেছে। নতুন বাজেটে ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং আর্থিক খাতে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ঘোষণা করা হতে পারে।

কর ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও সংস্কারের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। রাজস্ব আদায় বাড়াতে করের আওতা সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর প্রশাসন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। তবে নতুন করের বোঝা চাপিয়ে না দিয়ে করব্যবস্থাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও ব্যবসাবান্ধব করার দাবি রয়েছে বিভিন্ন মহলের।

এ ছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং দক্ষতা উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এখন সময়ের প্রয়োজন। দক্ষ ও আধুনিক মানবসম্পদ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, এবারের বাজেটে মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট হতে পারে অর্থনৈতিক সংস্কার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির একটি নতুন রূপরেখা। তবে বাজেটের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। কারণ কাগজে-কলমে ঘোষণার চেয়ে বাস্তবে তার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই হবে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এখন দেশবাসীর অপেক্ষারনতুন অর্থমন্ত্রীর প্রথম বাজেট কি অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে, নাকি পুরোনো সমস্যার আবর্তেই আটকে থাকবে উন্নয়নের চাকা? সেই উত্তর মিলবে বাজেট ঘোষণার পর, তার বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি নয়, দুটি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে: নয়াদিল্লি সদ্য. গণতন্ত্র রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি সদ্য. মানবতাবিরোধী অপরাধে নাছিম-আরাফাত-পরশসহ ৭ শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড সদ্য. ঢাবির এক হলের পাশে ককটেল বিস্ফোরণ সদ্য. ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি ও তার স্ত্রী-শ্যালকের কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের সন্ধান সদ্য. হুতি হামলায় বড় ধাক্কা, ইউরোপে তেল সরবরাহ স্থগিত করল সৌদি আরামকো সদ্য. নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো আজ সিলেট সফরে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি সদ্য. ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কেন ভারতে যাইনি?’, ব্যাখ্যা দিলেন আসিফ নজরুল সদ্য. পুলিশের আট কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন সদ্য. কাদেরসহ ৫ জনের অর্ধেক সম্পত্তি যাবে জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের কাছে সদ্য. প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি নয়, দুটি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে: নয়াদিল্লি সদ্য. গণতন্ত্র রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি সদ্য. মানবতাবিরোধী অপরাধে নাছিম-আরাফাত-পরশসহ ৭ শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড সদ্য. ঢাবির এক হলের পাশে ককটেল বিস্ফোরণ সদ্য. ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি ও তার স্ত্রী-শ্যালকের কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের সন্ধান সদ্য. হুতি হামলায় বড় ধাক্কা, ইউরোপে তেল সরবরাহ স্থগিত করল সৌদি আরামকো সদ্য. নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো আজ সিলেট সফরে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি সদ্য. ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কেন ভারতে যাইনি?’, ব্যাখ্যা দিলেন আসিফ নজরুল সদ্য. পুলিশের আট কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন সদ্য. কাদেরসহ ৫ জনের অর্ধেক সম্পত্তি যাবে জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের কাছে