দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে রাজনৈতিক সমর্থনের বিনিময়ে অবৈধভাবে বিনা মূল্যে জনমত জরিপ নেওয়ার দায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। সোমবার (১৩ জুলাই) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এ রায় দেন।
আদালত জানায়, ২০২১-২২ সালে একটি সংসদীয় উপনির্বাচনে নিজের দলের এক মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীকে সমর্থনের বিনিময়ে ইউন সুক ইওল ও তার স্ত্রী কিম কিওন হি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দালাল মিয়ং তে-কিউনের কাছ থেকে ১৪টি বিনা মূল্যের জনমত জরিপের সুবিধা গ্রহণ করেন। এ ঘটনাকে রাজনৈতিক তহবিল আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, ইউন সুক ইওলের কর্মকাণ্ড রাজনীতির প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করেছে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের বিশ্বাস দুর্বল করেছে। তাই তার অপরাধকে গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
একই মামলায় রাজনৈতিক দালাল মিয়ং তে-কিউনকেও দোষী সাব্যস্ত করে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে ইউনের আইনজীবীরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের দাবি, আদালতের সিদ্ধান্ত পর্যাপ্ত প্রমাণের পরিবর্তে অনুমানের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে ৬৫ বছর বয়সী ইউন সুক ইওল একাধিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারি করে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে পৃথক এক মামলায় তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, যার বিরুদ্ধে বর্তমানে আপিল চলছে। এছাড়া সামরিক আইন জারির আগে উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে সংকট তৈরির আরেক মামলায় তাকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে সোমবারের রায়টি ওই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়।
এদিকে একই মামলায় সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কিওন হির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের রায় বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হতে পারে। যদিও নিম্ন আদালতের দুটি রায়ে তিনি খালাস পেয়েছিলেন, অন্য দুটি পৃথক মামলায় তিনি ইতোমধ্যেই কারাদণ্ড ভোগ করছেন। এর মধ্যে উপহারের বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগে ঘুষ মামলায় সাত বছরের এবং শেয়ারবাজারে কারসাজি ও দুর্নীতির মামলায় আরও চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারির সিদ্ধান্ত দক্ষিণ কোরিয়ায় তীব্র রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করে। পরে বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা সেই আদেশ বাতিল করেন এবং অভিশংসনের মাধ্যমে ইউন সুক ইওলকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারণ করা হয়।