ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটির এই শিক্ষার্থী জানান, প্রায় দেড় বছরের গবেষণার মাধ্যমে তৈরি ডিভাইসটি ভূ-অভ্যন্তরে সৃষ্ট সিসমিক তরঙ্গ বিশ্লেষণ করে কাজ করে। বিশেষ করে এটি ‘প্রাইমারি ওয়েভ’ শনাক্ত করতে পারে, যা মূল ক্ষতিকর ‘সেকেন্ডারি ওয়েভ’ আসার আগেই ঘটে।
ইব্রাহিম মোল্লা বলেন, 'সাধারণত মানুষ যে কম্পন অনুভব করে তা সেকেন্ডারি ওয়েভের ফল। কিন্তু ‘ভুবন’ প্রাইমারি ওয়েভ শনাক্ত করে আগাম সংকেত দেয়। ফলে ৩০ সেকেন্ড পর্যন্ত সাইরেন বাজিয়ে মানুষকে সতর্ক করা সম্ভব হয়, যা জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সময় এনে দিতে পারে।'
তিনি আরও জানান, ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেস্টিংয়ে ডিভাইসটি প্রায় শতভাগ সফলতা দেখিয়েছে। বর্তমানে এটি ভবনের অভ্যন্তরে ব্যবহারের জন্য উপযোগী হলেও, মাটির গভীরে বা ফ্রন্টলাইনে স্থাপন করা গেলে আগাম সতর্কতার সময়সীমা দুই মিনিট পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।
এই উদ্ভাবনের স্বীকৃতি হিসেবে ইতোমধ্যে বুয়েট ও এমআইএসটির মতো দেশের শীর্ষ প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।
তরুণ এই উদ্ভাবক জানান, দেশের মানুষের জানমাল রক্ষায় তিনি তার উদ্ভাবন সরকারকে বিনামূল্যে দিতে প্রস্তুত। তবে এখনো পর্যন্ত সরকারি উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি বলে জানান তিনি।
ইব্রাহিম মোল্লার প্রত্যাশা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ‘ভুবন’ ডিভাইসটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করে দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা সম্ভব হবে।