জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা উভয়েই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর জোট করার সুযোগ থাকে না। সমঝোতার সম্ভাবনা থাকলেও বিএনপির সঙ্গে এ বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান তিনি।
রোববার রাতে রংপুর মহানগরীর স্কাইভিউ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জিএম কাদের বলেন, যেখানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী দুর্বল, সেখানে বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া এবং যেখানে জাতীয় পার্টির শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছে, সেখানে বিএনপি সমর্থন দিলে উভয় দলের প্রার্থীরা জিততে পারেন—এমন আলোচনা হতে পারে। জাতীয় পার্টি যদি সেটিকে সুবিধাজনক মনে করে, তবেই এ ধরনের সমঝোতা সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জিএম কাদের দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত একমাত্র জাতীয় পার্টিই সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে এবং দলীয়ভাবে রেজুলেশন করে আন্দোলনকে সমর্থন দিয়েছে। এর পরও জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের হত্যা মামলায় জেলে ঢোকানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে তাঁদের জামিন না দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং স্বাধীন বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপের শামিল হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসন ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের জুলাইয়ের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সময় পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন দিনে দুইবার করে অন্য দলের সঙ্গে বৈঠক করছে বলেও মন্তব্য করেন জিএম কাদের।
নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র অত্যন্ত জটিল করা হয়েছে। এতে নতুন প্রার্থীরা ভুল করতে পারেন এবং পরবর্তীতে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হতে পারেন। তাঁর আশঙ্কা, জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের বেআইনিভাবে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়াকে আইনসঙ্গত করতে কমিশন বা সংশ্লিষ্টরা এই পথ অবলম্বন করতে পারে।
জিএম কাদের বলেন, নির্বাচনে তারা সমান সুযোগের পরিবেশ দেখছেন না এবং নিয়মিত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তবু এই নির্বাচনকে জাতীয় পার্টি একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার প্রতিটি বিষয় জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, জনগণই জাতীয় পার্টির সবচেয়ে বড় শক্তি এবং তারাই এসব সমস্যার সমাধান করতে পারবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ইয়াসির, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আজমল হোসেন লেবুসহ দলের অন্যান্য নেতারা।