বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিদায় নিয়েছে নরওয়ে। তবে দেশে ফিরে বীরের সংবর্ধনায় সিক্ত হয়েছেন আরলিং হালান্ড, মার্টিন ওদেগার্ডসহ পুরো দল। রাজধানী অসলোতে হাজারো সমর্থকের উচ্ছ্বাস আর রাজপরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে নরওয়ের ইতিহাসের অন্যতম সেরা বিশ্বকাপ অভিযান।
এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় নরওয়ে। গ্রুপপর্বে ইরাক ও সেনেগালকে হারিয়ে নকআউট পর্বে ওঠে তারা। এরপর আইভোরি কোস্টকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে হালান্ডরা। নকআউটে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নেয় নরওয়ে।
২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেন আরলিং হালান্ড। দেশে ফেরার সময়ও ছিল বিশেষ আয়োজন। নরওয়ে দলের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, অসলো পর্যন্ত খেলোয়াড়দের বহনকারী বিমানকে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে আসে নরওয়েজিয়ান সামরিক বাহিনীর যুদ্ধবিমান। বিমানবন্দরে তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল রাজকীয় সংবর্ধনা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন নরওয়ের রাজপরিবারের সদস্যরাও। বিশ্বকাপে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনে হাজারো সমর্থকের সঙ্গে যোগ দেন ক্রাউন প্রিন্স হাকোন। অধিনায়ক মার্টিন ওদেগার্ড ও আরলিং হালান্ডের মতো ঢোল বাজিয়ে উদযাপনের সূচনা করেন তিনি।
পরে খোলা ছাদওয়ালা বাসে শহরজুড়ে শোভাযাত্রা করেন নরওয়ের ফুটবলাররা। রাস্তার দুই পাশে জড়ো হওয়া হাজারো সমর্থকের ভালোবাসার জবাব দেন হালান্ড-ওদেগার্ডরা।
তবে নরওয়ের স্বপ্ন থেমে যায় কোয়ার্টার ফাইনালেই। মায়ামিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে জুড বেলিংহামের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় তারা। সেই জয়ে সেমিফাইনালে ওঠে ইংল্যান্ড, যেখানে ফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে টমাস টুখেলের শিষ্যরা।