কদিন আগে তামিম ইকবালকে ‘পরীক্ষিত ভারতীয় দালাল’ বলে বিতর্কে জড়ান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলাম। সেই মন্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই আবার নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তিনি। আজ বিকেলে মিরপুরে দেওয়া বক্তব্যের জেরে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে ক্রিকেট খেলা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব।
খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাজমুল বলেন, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলুক বা না খেলুক, এতে বিসিবির কোনো লাভ-ক্ষতি নেই এবং ক্রিকেটারদের কাছ থেকে বোর্ড কি টাকা ফেরত চাইছে—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি। এই মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে রাত সাড়ে ৯টায় এক জুম বৈঠকে তাঁর পদত্যাগের দাবি তোলে ক্রিকেটারদের কল্যাণে কাজ করা সংগঠন কোয়াব।
কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বোর্ড পরিচালকের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, নাজমুল যেভাবে ধারাবাহিকভাবে শব্দ ব্যবহার করছেন, তা পুরো ক্রিকেট অঙ্গনকে আঘাত করেছে এবং খেলোয়াড়েরা এসব মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণ করতে রাজি নন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, আগামীকালের ম্যাচের আগে নাজমুল পদত্যাগ না করলে পরদিন থেকে সব ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হবে।
এর আগেও তামিম ইকবালকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর নাজমুলের পেশাদারত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ, নাজমুল হোসেন শান্ত, রুবেল হোসেন ও মুমিনুল হক। জুম বৈঠকে সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে মিঠুন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ক্রিকেটারকে নিয়ে যেভাবে মন্তব্য করা হচ্ছে, তা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, একজন বোর্ড পরিচালকের ভাষা ও আচরণ আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।
এর মধ্যেই মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেওয়ার পর বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একজন ক্রিকেটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে পুরো বাংলাদেশ দলকে কীভাবে নিরাপত্তা দেওয়া হবে—এ প্রশ্ন তুলেছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাসুদ পাইলটসহ সংশ্লিষ্টরা। ভারত থেকে সরিয়ে বিশ্বকাপের আরেক আয়োজক শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এই প্রেক্ষাপটে আজ নাজমুল সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ খেলুক বা না খেলুক, বোর্ডের কোনো লাভ বা ক্ষতি নেই এবং অন্তত এই বিশ্বকাপে বিসিবির আর্থিক বিষয় জড়িত নয়। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরেই নতুন করে অসন্তোষ তৈরি হয়।
বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ার কয়েক ঘণ্টা পর বিসিবি এক বিজ্ঞপ্তিতে নিজেদের অবস্থান জানায়। সেখানে বলা হয়, বোর্ডের এক পরিচালকের সাম্প্রতিক মন্তব্য অনেককে বিচলিত করেছে এবং বিসিবি বিষয়টির দ্রুত সমাধান চায়। ওই মন্তব্যকে অনুপযুক্ত ও আপত্তিকর উল্লেখ করে বিসিবি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে।