বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের “জুলাই শহীদের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না; জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করো; ওয়াসিম সাইদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ; রায় দিয়েছে জনগন, মানতে হবে তারেক রহমান; সংশোধন নয়, সংস্কার পরিষদ গঠন কর; গাদ্দারি চলবে না;” ইত্যাদি লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, 'সংসদে যে অধ্যাদেশগুলো প্রস্তাব করা হয়েছে সেই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ মানবাধিকার অধ্যাদেশ, তথ্য অধিকার, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, গণভোটের অধ্যাদেশ সহ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো অবিলম্বে মানতে হবে।'
এসময় জাতীয় ছাত্রশক্তির জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক নাদিয়া রহমান অণ্বেষা বলেন, 'আমরা দেখেছি বিশটি অধ্যাদেশের মধ্যে চারটি বাতিল ও ষোলটি অধিকতর আলোচনার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। আমরা বুঝতে পারছি বর্তমান সরকার কোন এক এস্টাবলিশমেন্টের জন্য এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সরকারের কি এটুকু স্বকীয়তা নেই যে তারা নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে?'
তিনি আরও বলেন, 'যাদের গ্রিন সিগনালে এ অধ্যাদেশ স্থগিত করা হয়েছে তারাই হাসিনা কে স্বৈরাচার বানিয়েছিল। আপনাদের সরকারের যদি বৈধতা থাকে তাহলে ৭০% জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটও মানতে হবে।'
জাবি ছাত্রশক্তির সভাপতি জিয়াউদ্দিন আয়ান বলেন, 'দীর্ঘদিন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের পর ক্ষমতায় এসে বিএনপি সরকার জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থেকে সরে যাচ্ছে। দেশের বিপুল জনগণ গণভোটে জুলাই সনদের পক্ষে রায় দিলেও সরকার তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করছে।'
তিনি আরও বলেন, 'বিএনপি তাদের পূর্বঘোষিত সংবিধান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকেও সরে এসেছে এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। একইসঙ্গে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাব জনগণের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ। সরকার যদি স্বৈরাচারী পথে হাঁটে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আবারও রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।'