ইরানের ভয়ে ঘাঁটি ইসরায়েলে সরানোর পরামর্শ সাবেক মার্কিন জেনারেলের

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:৩৩
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা আরও কার্যকরভাবে রক্ষার জন্য উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি ইসরায়েল ও আশপাশের দেশে স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সাবেক প্রধান জেনারেল ফ্র্যাঙ্ক ম্যাকেঞ্জি। লন্ডনভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত সপ্তাহে জিউইশ ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি অব আমেরিকার আয়োজিত এক অনলাইন আলোচনায় ম্যাকেঞ্জি বলেন, কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে সেন্ট্রাল কমান্ডের অগ্রবর্তী সদর দপ্তর রাখা কৌশলগতভাবে যৌক্তিক নয়। তাঁর ভাষায়, ‘ইরান থেকে মাত্র ১০০ মাইল দূরে কাতারে সেন্টকমের অগ্রবর্তী সদর দপ্তর রাখা কোনো বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত হতে পারে না। অথচ বর্তমানে সেটিই করা হয়েছে।’

২০১৯ সালের ২৮ মার্চ থেকে ২০২২ সালের ১ এপ্রিল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর সর্বোচ্চ সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ম্যাকেঞ্জি জানান, ২০২২ সালেই তিনি এবং আরও কয়েকজন কর্মকর্তা তৎকালীন বাইডেন প্রশাসনকে সতর্ক করেছিলেন যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের সম্ভাব্য হামলার মুখে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

তাঁদের প্রস্তাব ছিল, ইরানের সঙ্গে সংঘাত দেখা দিলে আরও পশ্চিমে অবস্থিত ঘাঁটি ব্যবহারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। সম্ভাব্য স্থান হিসেবে ইসরায়েল, মিশরসহ কয়েকটি দেশের নামও প্রস্তাবে ছিল। ম্যাকেঞ্জি বলেন, তাঁরা বাইডেন প্রশাসনকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হলে পশ্চিমাঞ্চলের ঘাঁটি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তবে তাঁর দাবি, ওই প্রস্তাব তৎকালীন প্রশাসন দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল।

ম্যাকেঞ্জির মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ঘাঁটি কাঠামো মূলত শীতল যুদ্ধের সময়কার কৌশলগত বাস্তবতার ধারাবাহিকতা। সে সময় তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য সোভিয়েত আগ্রাসন প্রতিরোধই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য। পরে ইরাক ও আফগানিস্তানের বিদ্রোহবিরোধী অভিযানও সেই কাঠামো বহাল রাখতে ভূমিকা রেখেছে। তাঁর ভাষায়, বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত কৌশলের আর মিল নেই।

ম্যাকেঞ্জির এই বক্তব্য গত জুনে প্রকাশিত মিডল ইস্ট আইয়ের একটি প্রতিবেদনের সঙ্গে মিল রয়েছে। সেখানে সাবেক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরান যেভাবে মার্কিন ঘাঁটির দুর্বলতা প্রকাশ করেছে, তাতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক ঘাঁটির বিন্যাস নতুনভাবে সাজাতে হতে পারে।

প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইরানের হামলার ফলে কার্যত যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় উপকূল থেকে সরে যাওয়ার চাপের মুখে পড়েছে। মিডল ইস্ট আইয়ের তথ্যমতে, রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের বড় ধরনের হামলার পর গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের তাইফ বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি পায়।

একই সময়ে উপসাগরীয় উপকূলজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়ে। ইরান বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর, কাতারে সেন্টকমের সদর দপ্তর এবং কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায়।

ওপেন সোর্স বিশ্লেষক ও কয়েকজন কর্মকর্তার মধ্যে ইরানের হামলায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিয়ে মতভেদ থাকলেও ম্যাকেঞ্জি বলেন, কেবল উপগ্রহচিত্র দেখে কোনো ঘাঁটির কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বিভ্রান্তিকর হতে পারে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, কোনো ঘাঁটির হ্যাঙ্গার, রাডার স্থাপনা ও সেনা ব্যারাক ধ্বংস হলেও ভূগর্ভস্থ জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা এবং রানওয়ে অক্ষত থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে যুদ্ধবিমান অবতরণ ও উড্ডয়ন অব্যাহত রাখা সম্ভব। তাঁর মতে, শত্রুর কাছাকাছি অবস্থান করলে যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত পৌঁছানো যায়, তবে একই সঙ্গে শত্রুও দ্রুত পাল্টা আঘাত হানার সুযোগ পায়।

ম্যাকেঞ্জির মতে, আরব মিত্রদের সঙ্গে সংহতি বজায় রাখতে উপসাগরীয় দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি থাকা প্রয়োজন। তবে এসব ঘাঁটি মূলত জ্বালানি সরবরাহসহ সরবরাহব্যবস্থার সহায়ক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি ইসরায়েল, মিশর এবং সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলীয় অঞ্চলে স্থানান্তর করা উচিত।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পশ্চিমমুখী পরিকল্পনা নিতে হবে। ইসরায়েলে ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। আমার দৃষ্টিতে এটি অত্যন্ত কার্যকর একটি ধারণা।’

ম্যাকেঞ্জির মতে, ঘাঁটি স্থাপন, প্রবেশাধিকার এবং আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতির ক্ষেত্রে ইসরায়েল অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি সুবিধাজনক। পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোর তুলনায় দেশটি উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও দিতে সক্ষম।

তিনি উল্লেখ করেন, যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেখান থেকে অন্য দেশে সামরিক অভিযান চালাতে স্বাগতিক দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি প্রয়োজন হয়। যুদ্ধের শুরুতে উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। পরে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিয়ে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়।

ম্যাকেঞ্জি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বাগতিক দেশের অবস্থান। কারণ তারা চাইবে, তাদের ভূখণ্ড থেকে উড্ডয়ন করা যুদ্ধবিমান কোথায় যাবে, সে বিষয়ে তাদেরও মতামত থাকুক। তাঁর মতে, ইসরায়েল এমন একটি দেশ, যেখানে মার্কিন যুদ্ধবিমানের ওপর সবচেয়ে কম বিধিনিষেধ থাকবে। এ কারণেই দেশটিকে তিনি সবচেয়ে উপযোগী অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করেন।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে বাসভাড়া ৫০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সদ্য. গাজী নজরুলের ৪ দিন ও স্ত্রীর ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর সদ্য. বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম সদ্য. বিআরটিএতে বাস ভাড়া বাড়ানোর মিটিং চলছে সদ্য. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বিদায়ী চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ সদ্য. দুবাইয়ে শেখ আহমেদ বিন রশিদ আল মাকতুম আর নেই, ১০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক সদ্য. যুবলীগ হিসেবে আটক, বিজেপি পরিচয়ে মুক্তি সদ্য. ইতালির রোম বিমানবন্দরে মিন্টু-টুকুকে বিএনপি শাখার উষ্ণ অভ্যর্থনা সদ্য. জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করলেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে আজ মাঠে নামছে ইসলামী আন্দোলন সদ্য. দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে বাসভাড়া ৫০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সদ্য. গাজী নজরুলের ৪ দিন ও স্ত্রীর ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর সদ্য. বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম সদ্য. বিআরটিএতে বাস ভাড়া বাড়ানোর মিটিং চলছে সদ্য. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বিদায়ী চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ সদ্য. দুবাইয়ে শেখ আহমেদ বিন রশিদ আল মাকতুম আর নেই, ১০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক সদ্য. যুবলীগ হিসেবে আটক, বিজেপি পরিচয়ে মুক্তি সদ্য. ইতালির রোম বিমানবন্দরে মিন্টু-টুকুকে বিএনপি শাখার উষ্ণ অভ্যর্থনা সদ্য. জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করলেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে আজ মাঠে নামছে ইসলামী আন্দোলন