জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট বা আসন সমঝোতায় গেলে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) কঠিন মূল্য চুকাতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। রোববার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।
গত কয়েকদিন ধরে এনসিপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য জোট নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দলটির ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেন আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে।
ফেসবুক পোস্টে সামান্তা শারমিন লেখেন, জামায়াতে ইসলামী নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক মিত্র নয় এবং তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সহযোগিতা বা সমঝোতা এনসিপির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি জামায়াতের নেতারা মন্তব্য করেছেন যে, জুলাইয়ের স্পিরিট ও বাংলাদেশ নিয়ে পরিকল্পনায় একমত দলগুলোকেই জোটে নেওয়া হবে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এনসিপির রাষ্ট্রকল্প, রাজনৈতিক দর্শন ও মূলনীতি জামায়াতের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিচার, সংস্কার ও গণপরিষদ নির্বাচন তথা সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে অভিন্ন অবস্থান ছাড়া কোনো রাজনৈতিক মিত্রতা সম্ভব নয় বলে তিনি মত দেন।
তিনি আরও লেখেন, সংসদীয় সংস্কার বাধাগ্রস্ত করতে জামায়াত পিআর পদ্ধতির আওয়াজ তুলেছিল। সে কারণেই আহ্বায়ক আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, সংস্কারের পক্ষে নয় এমন কোনো দলের সঙ্গে জোট সম্ভব নয়। এই অবস্থান থেকেই জুলাই পদযাত্রার পর ৩০০ আসনে একক প্রার্থী দিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয় এবং সারা দেশ থেকে প্রার্থী আহ্বান করা হয়।
সামান্তা শারমিন বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটের সমালোচনা করা মানেই বিএনপির পক্ষে অবস্থান নেওয়া নয়। বরং এনসিপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ঘোষিত রাজনৈতিক অবস্থানকেই তিনি যথাযথ মনে করেন। তার মতে, বিএনপি বা জামায়াত—যেকোনো পক্ষের সঙ্গে জোট করাই এনসিপির নীতিগত অবস্থান থেকে সরে যাওয়ার শামিল হবে।