২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে জার্মানিকে বিদায় করে ইতিহাস গড়ে প্যারাগুয়ে। জয়ের পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে শুরু হয় স্বতঃস্ফূর্ত উদযাপন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, জাতীয় পতাকা হাতে উল্লাসে মেতে উঠেছেন অসংখ্য সমর্থক।
ম্যাচের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে টাইব্রেকারের শেষ শটে। হোসে কানালের সফল স্পটকিকে নিশ্চিত হয় প্যারাগুয়ের শেষ ষোলো। সেই মুহূর্তে গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা দলকে অভিনন্দন জানান এবং জাতীয় ছুটি ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বার্তায় তিনি বলেন, ‘আজ উদযাপন করছে পুরো প্যারাগুয়ে। এই দল আমাদের পরিচয়ের প্রতীক। তাদের অদম্য লড়াই, বিশ্বাস এবং কখনো হার না মানার মানসিকতা পুরো জাতিকে এক করেছে। আলবিরোহাকে ধন্যবাদ, তারা আমাদের গর্বিত করেছে এবং একই পতাকার নিচে লাখো প্যারাগুইয়ানকে একত্রিত করেছে।’
প্যারাগুয়ের এই ঐতিহাসিক জয় শুধু দেশেই নয়, প্রতিবেশী আর্জেন্টিনাতেও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দেয়। বুয়েনস আইরেসের ওন্সে রেলস্টেশনে দুই দেশের সমর্থকেরা একসঙ্গে বিজয় উদযাপন করেন।
এ ছাড়া আর্জেন্টিনার ক্লাব সান লরেঞ্জোর ক্রীড়া কমপ্লেক্সেও আনন্দ-উৎসবে অংশ নেন বয়সভিত্তিক দলের ফুটবলাররা। তারা প্রথম দলের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলকে অভিনন্দন জানিয়ে এই উদযাপনে শামিল হন।
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে বিদায় দিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার এই অর্জনকে প্যারাগুয়ের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির ফুটবলপ্রেমীদের বিশ্বাস, এই জয় বিশ্বকাপে নতুন স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।