জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আন্তবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ধূপখোলায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী লোকপ্রশাসন বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী প্রতীক মণ্ডল জানান, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ টাইব্রেকারে জয়ী হওয়ার পর হঠাৎ করে ওই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও খেলোয়াড় উগ্র আচরণে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের দিকে তেড়ে যান। এ সময় এক শিক্ষিকার গায়ে ধাক্কা দেওয়া হয়। ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়, যা দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।
আহতদের পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা হলেন—দৈনিক আমার দেশ-এর লিমন ইসলাম, ডেইলি স্টার-এর রাকিবুল ইসলাম, দেশ রূপান্তর-এর ফাতেমা আলী, আজকের পত্রিকা-এর সোহান ফরাজী, দিনকাল-এর শিহাব, বার্তা২৪-এর সোহানুর রহমান সুবেল, কালবেলা-এর তৌসিন, নাইম ও রাকিব মাজহার। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মোহাম্মদ সালেহ উদ্দীন, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম ও নাজমুস সাকিবও আহত হয়েছেন। আহত শিক্ষার্থীদের সবার নাম ও বিভাগ জানা যায়নি।
আহতদের মধ্যে দৈনিক আমার দেশ-এর জবি প্রতিনিধি লিমন ইসলাম এবং ডেইলি স্টার-এর জবি প্রতিনিধি রাকিব মাদবরের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
হামলার শিকার দৈনিক আমার দেশ-এর জবি প্রতিনিধি লিমন ইসলাম বলেন, “ম্যাচে জয়ের পর তারা প্রথমে জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ১৫তম ব্যাচের রাফি ও জকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র বিষয়ক সম্পাদক নূর নবী এবং জবি পরিবহন প্রশাসক তারেক বিন আতিকের ইন্ধনে এই হামলা হয়েছে। স্টেজের সামনে স্বয়ং উপাচার্য ও ট্রেজারার স্যারের উপস্থিতিতে প্রায় ২০–২৫ জন মিলে আমাকে বেধড়ক মারধর করে।”
২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাকিব মিয়া বলেন, “ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ও জকসুর পরাজিত এজিএস পদপ্রার্থী বিএম আতিকুর রহমান তানজিল স্টেজের পূর্ব কর্নার থেকে লাঠি সরবরাহ করেন এবং হামলার জন্য ইন্ধন দিতে থাকেন।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, “ঘটনাটি আমাদের সামনেই ঘটেছে। আমরা এ বিষয়ে বৈঠক করছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”