সাভারের আশুলিয়ার জামগড়ায় প্রীতি গ্রুপের একটি পোশাক কারখানার সামনে গ্যাস সিলিন্ডারভর্তি লরিতে বিস্ফোরণের পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পথচারী ও এক নারীসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। তাঁদের স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে জামগড়া চৌরাস্তা এলাকার এফ অ্যান্ড এফ পোশাক কারখানার সীমানার ভেতরে থামিয়ে রাখা লরিটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিহতের সংখ্যা সাতজন বলে নিশ্চিত করেন ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান ও আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম।
বিস্ফোরণের পর লরিটির আশপাশে থাকা কয়েকটি যানবাহনেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পুড়ে যায় একটি মালবাহী কাভার্ডভ্যান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে পোড়া যানবাহনগুলোতে তল্লাশি চালান ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। এ সময় একটি লরি থেকে পাঁচজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আগুনে তাঁদের শরীর সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া বিস্ফোরণে গুরুতর দগ্ধ নজরুল ইসলামকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে বিস্ফোরণের সময় একটি গ্যাস সিলিন্ডার ছিটকে পাশের একটি দর্জির দোকানে গিয়ে পড়ে। সিলিন্ডারের আঘাতে জয়নব বেগম নামের এক নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিকেল ৫টার দিকে পোশাক কারখানার ছুটি হলে শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বের হয়ে নিজ নিজ বাসায় চলে যান। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর কারখানার সীমানার ভেতরে রাখা গ্যাস সিলিন্ডারভর্তি লরিতে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে পাশে থাকা কাভার্ডভ্যানসহ কয়েকটি যানবাহনে আগুন ধরে যায়।
বিস্ফোরণের সময় সিলিন্ডারের একটি লোহার টুকরা কারখানার পাশের দর্জির দোকানে থাকা জয়নব বেগমের মাথায় আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত জয়নব বেগমের বয়স ৫৫ বছর। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুরের ইছরকান্দি এলাকার মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী। জামগড়ায় মেয়ের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন তিনি। তাঁর মেয়েই ওই দর্জির দোকানটি পরিচালনা করেন।
জয়নবের মেয়ে জানান, ঘটনার সময় তিনি ও তাঁর মা দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁর মা মাটিতে পড়ে যান। পরে কারখানার সামনে আগুন দেখতে পান এবং শ্রমিকসহ আশপাশের লোকজনকে ছোটাছুটি করতে দেখেন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মায়ের মৃত্যু হয় বলে জানান তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী সুমন মিয়া বলেন, ফায়ার সার্ভিস পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় ঘটনাস্থলে থাকা অনেকেই আগুন নেভানোর কাজে এগিয়ে আসেন। স্থানীয়রা প্রথমে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় তাঁদের পক্ষে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
আশুলিয়া ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর সোমেন বড়ুয়া বলেন, সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে তাঁদের স্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের খবর আসে। বাইপাইল সড়কে তীব্র যানজট থাকায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। পরে চারটি ইউনিট সেখানে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর পুড়ে যাওয়া কয়েকটি যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় একটি লরি থেকে পাঁচজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম জানান, কারখানার গেটের সামনে থেকে এক নারীর মরদেহ এবং একটি লরি থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। বিস্ফোরণের সময় গ্যাস সিলিন্ডারের একটি অংশ ওই নারীর মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। রাত ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
সদ্য সংবাদ/ এআর