কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আবাসিক হলগুলোতে দুর্যোগকালীন সময়ে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেনারেটর স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলেও আবাসিক শিক্ষার্থীদের পানির সংকটে পড়তে হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মে জেনারেটর স্থাপন প্রকল্পের ফাইল অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৮ মে টেন্ডার প্রকাশ করা হয়েছে, যা বর্তমানে অনলাইনে চলমান রয়েছে। আগামী ১১ জুন বিডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ঝড়-বৃষ্টিজনিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ২৬ এপ্রিলের তীব্র ঝড়-বৃষ্টিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রায় ২৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল পুরো ক্যাম্পাস। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় আবাসিক হলগুলোর পানির ট্যাংক খালি হয়ে যায় এবং শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। এমনকি আশপাশের হোটেল ও খাবারের দোকানগুলোতেও পানির সংকট দেখা দেয়। অনেক শিক্ষার্থীকে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে বাইরে থেকে পানি কিনতে হয়েছিল।
এই অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতেই বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে এবং প্রশাসন জেনারেটর স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী মোট ছয়টি জেনারেটর স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি আবাসিক হল— বিজয়-২৪ হল, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল, কাজী নজরুল ইসলাম হল, সুনীতি-শান্তি হল এবং নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলে একটি করে জেনারেটর স্থাপন করা হবে। এছাড়া একটি জেনারেটর উপাচার্যের বাসভবনে স্থাপন করা হবে। এসব জেনারেটর মূলত বিদ্যুৎ না থাকা অবস্থায় পানির ট্যাংকে পানি উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত হবে।
এ বিষয়ে বিজয়-২৪ হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, “সম্প্রতি দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। বিষয়টি আমরা প্রশাসনের নজরে আনি। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আশা করি, ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের পানির দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম বলেন, “মোট ছয়টি জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি।”