ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত নৈপুণ্য এবং দীর্ঘ বিরতির পর নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তনের রাতে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপসেরা হয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ব্রাজিল। মায়ামিতে ৬৪ হাজারের বেশি দর্শকের উপস্থিতিতে সেলেসাওরা তুলে ধরেছে নিজেদের পরিচিত আক্রমণাত্মক ফুটবল।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় ব্রাজিল। স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ান বল দখল করেন। পরে তাঁর বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকে নিখুঁত শটে গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এই গোলের মাধ্যমে ২০০২ সালের পর প্রথম ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের টানা তিন ম্যাচে গোল করার কীর্তি গড়েন তিনি।
২১তম মিনিটে আবারও জালে বল পাঠিয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। তবে ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনায় গোলটি বাতিল হয়। তবু প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ব্রুনো গিমারেসের নিখুঁত ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল আদায় করে নেন এই ফরোয়ার্ড। চলতি আসরে এটি তাঁর চতুর্থ গোল।
দ্বিতীয়ার্ধে স্কটল্যান্ড কিছুটা আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করে। ৫০তম মিনিটে স্কট ম্যাকটমিনির বিপজ্জনক হেড দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করেন ব্রাজিলের গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার। দুই মিনিট পর ভিনিসিয়ুস হ্যাটট্রিকের সুযোগ নষ্ট করেন।
এরপর গ্যালারিজুড়ে শুরু হয় নেইমারের নামধ্বনি। সেই উচ্ছ্বাসের মধ্যেই ৫৯তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ায় ব্রাজিল। কাসেমিরোর পাস থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে ব্রুনো গিমারেসের মাধ্যমে বল পান মাথিয়াস কুনিয়া। ডান দিক দিয়ে দণ্ডক্ষেত্রে ঢুকে নিচু শটে গোল করে দলকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে আসে প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। মাথিয়াস কুনিয়ার পরিবর্তে মাঠে নামেন নেইমার। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর দীর্ঘ চোট কাটিয়ে প্রায় আড়াই বছর পর আবারও ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে ফেরেন এই তারকা ফুটবলার। যদিও অল্প সময় মাঠে থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু করার সুযোগ পাননি তিনি।
শেষ বাঁশি বাজতেই উৎসবে মেতে ওঠে ব্রাজিল শিবির। গ্রুপ ‘সি’ থেকে ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।