বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন যুবলীগ ইউরোপের দেশ পর্তুগালে পুনরায় সংগঠিত হয়ে সক্রিয় হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের একাধিক সূত্রের দাবি, সংগঠনটি গোপন বৈঠক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং বিভিন্ন ব্যানারের মাধ্যমে কার্যক্রম চালাচ্ছে।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি পর্তুগালের রাজধানী লিসবনসহ কয়েকটি শহরে যুবলীগ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি নিয়মিত বৈঠক করছেন। এসব বৈঠকে সংগঠনের পুরোনো কাঠামো পুনর্গঠন, সদস্য সংগ্রহ এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পর্তুগালে বসবাসরত কয়েকজন বাংলাদেশি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, যুবলীগের ব্যানারে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংগঠনটি নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ব্যবহার করে সমর্থকদের সক্রিয় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যুবলীগকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সংগঠিত অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। নিষেধাজ্ঞার পর দেশে সংগঠনটির প্রকাশ্য কার্যক্রম বন্ধ হলেও বিদেশে নতুনভাবে সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে পর্তুগালে বসবাসরত মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছেন, নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের বিদেশে কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইন ও স্বাগতিক দেশের আইনশৃঙ্খলার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তারা এ বিষয়ে পর্তুগিজ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের আহ্বান জানান।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে যুবলীগ কিংবা আওয়ামী লীগের কোনো দায়িত্বশীল নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশে বসে নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম চালানো ভবিষ্যতে কূটনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রবাসে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের তৎপরতা শুধু বাংলাদেশের রাজনীতিতেই নয়, সংশ্লিষ্ট দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।