ওয়াজ-মাহফিলে বিধি-নিষেধ আরোপকে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির দাবি, নির্বাচনের অজুহাতে ধর্মীয় আয়োজন সীমিত করা হলে তা জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এ মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ওয়াজ-মাহফিল বাংলাদেশের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। শীত মৌসুমে দেশের প্রায় প্রতিটি গ্রামেই ওয়াজের আয়োজন হয় এবং অনেক আয়োজন দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বহন করে আসছে। নির্বাচনের কারণে এসব ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হলে তা স্পষ্টভাবে মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে, যা সরকার ও নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরি করবে। ফ্যাসিবাদের পতনের পরও ধর্ম প্রচারে বিধি-নিষেধ আরোপ জনমনে প্রত্যাশিত নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গাজী আতাউর রহমান আরও বলেন, অধিকাংশ ধর্মীয় বক্তা অরাজনৈতিক চরিত্রের এবং তাঁদের ওয়াজে শতভাগ রাজনীতিমুক্ত ধর্মীয় আলোচনা উপস্থাপিত হয়। নির্বাচন সামনে রেখে ওয়াজের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ কোনোভাবেই যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত হতে পারে না।
তিনি বলেন, ধর্মীয় বক্তারা সাধারণত দুর্নীতি, সুদ, ঘুষ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করে থাকেন। এসব বক্তব্যকে যদি রাজনৈতিক হিসেবে গণ্য করা হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশনের বিবেক ও বিবেচনা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। এ অবস্থায় তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন ওয়াজ-মাহফিলের ওপর আরোপিত বিধি-নিষেধ প্রত্যাহার করবে।