খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সাপমারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাতেই প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরের খবরও পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের প্রস্তুতি নিয়ে সাপমারা এলাকার দলীয় কার্যালয়ে বৈঠক করছিলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় পাশের একটি দোকানে মানিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদীনের ছোট ভাই আমির হোসেনকে দেখতে পেয়ে কয়েকজন তাঁকে আটক করে কার্যালয়ে নিয়ে যান।
পরে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও তাঁদের স্বজনেরা সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র, দা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা আমির হোসেনকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ সময় পাঁচজন আহত হন।
আহতদের মধ্যে বিএনপির কর্মী মো. শাহাদাত হোসেন, মো. সাদ্দাম হোসেন ও মো. ফারুক হোসেন রয়েছেন। এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শফিকুল ইসলাম সুজনও আহত হয়েছেন। উপজেলা বিএনপির সভাপতি জানিয়েছেন, সুজনসহ তিনজনের অবস্থা গুরুতর।
আহতদের প্রথমে মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর গুরুতর আহত তিনজনকে চমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, তাঁদের প্রস্তুতি সভা চলাকালে আমির হোসেনকে কার্যালয়ে নিয়ে আসার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও তাঁদের স্বজনেরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। এ ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর পুলিশ এলাকায় তল্লাশি চালালেও কাউকে আটক করতে পারেনি। এ ঘটনায় থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
তবে মানিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে।
এদিকে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। এ সময় বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে। তবে এসব ভাঙচুরের সঙ্গে কারা জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঘটনাকে ঘিরে সাপমারা এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সদ্য সংবাদ/এসএস