শিক্ষক সংকটে বিপর্যস্ত খাগড়াছড়ির দীঘিনালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। পাঁচটি শ্রেণিতে প্রায় ৪৮০ শিক্ষার্থী থাকলেও পাঠদান করানোর জন্য রয়েছেন মাত্র দুজন সহকারী শিক্ষক। ২১টি শিক্ষক পদের বিপরীতে এমন জনবল সংকটে নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা ও নির্ধারিত সময়ে পাঠ্যসূচি শেষ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিদ্যালয়টিতে সরেজমিনে দেখা গেছে, শিক্ষক স্বল্পতার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা যাচ্ছে না। এতে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় তারা নিয়মিত পাঠ গ্রহণ করতে পারছে না। ফলে পড়াশোনার ধারাবাহিকতা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েও তাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।
এক অভিভাবক সদ্য সংবাদকে জানান, সরকারি বিদ্যালয়ে সন্তানদের ভর্তি করিয়েও কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার পরিবেশ পাচ্ছেন না তাঁরা। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে অভিভাবকেরা ক্লাস বর্জনের কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনুপ কুমার দাশ সদ্য সংবাদকে বলেন, ২১টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন সহকারী শিক্ষক। প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি তাঁকেও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হচ্ছে। এত অল্পসংখ্যক শিক্ষক দিয়ে প্রায় ৪৮০ শিক্ষার্থীর পাঠদান চালিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন।
এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র শিকদার সদ্য সংবাদকে জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকটের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে। শূন্য পদ পূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দীর্ঘদিনের এই শিক্ষক সংকট কাটিয়ে বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পাঠদান নিশ্চিত করতে এখন দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম শুরুর অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
সদ্য সংবাদ/এসএস