ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মালদ্বীপে বিশেষ সেমিনার ও প্যানেল আলোচনা করেছে দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ইতিহাস, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রগঠন ও কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ-মালদ্বীপের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিকাশ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম। ‘জাতীয় ইতিহাস, কূটনৈতিক উত্তরাধিকার এবং বাংলাদেশ-মালদ্বীপের বন্ধুত্ব’ শীর্ষক আলোচনায় মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক, প্রবাসী বাংলাদেশি প্রতিনিধি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড পাবলিক পলিসি বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ হুদ ইব্রাহিম। আলোচনায় আরও অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সহকারী অধ্যাপক ড. কে. এম. হুরিয়া পারভীন এবং প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ও কমিউনিটি নেতা মো. খলিলুর রহমান।
বক্তারা ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও দেশপ্রেমের গুরুত্বের পাশাপাশি রাষ্ট্রগঠন এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের সম্পর্ক সম্প্রসারণে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা স্মরণ করেন।
আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা। বক্তারা জানান, ১৯৭৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রপতিত্বকালে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁদের মতে, সেই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি হয়।
মূল প্রবন্ধে মোহাম্মদ হুদ ইব্রাহিম দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। ড. কে. এম. হুরিয়া পারভীন পারস্পরিক বোঝাপড়া ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বাড়াতে একাডেমিক সম্পৃক্ততার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন। অন্যদিকে, মো. খলিলুর রহমান মালদ্বীপের অর্থনীতি ও সমাজে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে তাঁদের ভূমিকা তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম জাতীয় ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন।
হাইকমিশনার আরও বলেন, প্রায় পাঁচ দশকের বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সম্পর্ক বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে। মালদ্বীপে বসবাসরত প্রায় এক লাখ বাংলাদেশি তাঁদের শ্রম ও পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে দেশটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন। একই সঙ্গে তাঁরা দুই দেশের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বের যোগসূত্র হিসেবে কাজ করছেন। প্রবাসীদের প্রতি মালদ্বীপ সরকার ও জনগণের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হাইকমিশনারের বক্তব্য, দিবস উপলক্ষে পাঠানো বাণী এবং প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। আলোচনা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত এবং আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
আয়োজকদের মতে, এ সেমিনারের মাধ্যমে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের পাশাপাশি শিক্ষা, গবেষণা, জ্ঞান বিনিময় ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস