বিদেশ থেকে পরিচালিত অনলাইন বেটিং সাইটের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ ও তা বিদেশে পাচারের অভিযোগে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সংস্থাটির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) একটি দল রাজশাহী ও ঝিনাইদহে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
সিআইডি জানায়, গত ১৯ আগস্ট রাজশাহী ও ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। প্রথমে রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার পদ্মা আবাসিক এলাকা থেকে সৈয়দ জামানকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাতে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে রুহুল কুদ্দুস ওরফে বাপ্পীকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে সিআইডি দাবি করছে, সৈয়দ জামান রাশিয়া থেকে নিয়ন্ত্রিত একটি অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিন হিসেবে কাজ করতেন। অন্যদিকে রুহুল কুদ্দুসও অনলাইন বেটিং কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
সিআইডির ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ চক্র অনলাইন জুয়ার এজেন্ট নিয়োগ করত। এসব এজেন্টের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) নম্বর ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে বেটিং সাইটের সঙ্গে যুক্ত করা হতো। পরে ওই হিসাব ও নম্বর ব্যবহার করে জুয়ায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া এবং অর্থ উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হতো।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, এজেন্টরা জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ কমিশন হিসেবে রেখে দিতেন। বাকি অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হতো বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য মিলেছে।
সিআইডি জানায়, সাইবার মনিটরিংয়ের সময় দেশে ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং সাইটের কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব সাইটের প্রচারণাও চালানো হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্ট এবং অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে অর্থের বিনিময়ে বেটিং পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।
এ ঘটনায় সিআইডির পক্ষ থেকে গত ১৭ মে রাজধানীর পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে সাইবার পুলিশ সেন্টার।
তদন্তে বেটিং সাইটে ব্যবহৃত এজেন্ট নম্বর ও আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে সিআইডি। গ্রেপ্তার দুইজন নিজেদের নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিম বেটিং সাইটে সক্রিয় করার পাশাপাশি অন্যদের সিম সংগ্রহ করে সাইটে যুক্ত করতেন বলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। তারা জুয়া সাইটে অর্থ জমা ও উত্তোলন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।
সিআইডি আরও জানায়, একই মামলায় এর আগে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গত ৭ জুন টাঙ্গাইল থেকে তিনজন, ১৬ জুন নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ থেকে তিনজন এবং ১২ জুলাই নড়াইল থেকে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির সাইবার পার্সোনেল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট শাখা। এই চক্রের সঙ্গে দেশি-বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, অর্থপাচারের পরিমাণ এবং লেনদেনে ব্যবহৃত ব্যাংক ও এমএফএস হিসাবের মালিকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
গ্রেপ্তার দুজনকে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ে অর্থ লেনদেন থেকে বিরত থাকতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। একই সঙ্গে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করেছে সংস্থাটি।
সদ্য সংবাদ/এসএস