যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার পর ওয়াশিংটনকে কঠোর বার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যে পরিস্থিতি তৈরি করেছে, সেখান থেকে তারা ‘জাহান্নামের গভীরতা থেকে পালাতে পারবে না’।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে এ মন্তব্য করেন রেজাই। তিনি বলেন, সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতা ও অর্থনৈতিক অবরোধ মোকাবিলায় ইরান নতুন কৌশল গ্রহণ করছে। এই কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে বড় ধরনের চাপে ফেলবে বলেও দাবি করেন তিনি।
ইরানের নিরাপত্তাপ্রধানের এমন বক্তব্য এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় হামলা-পাল্টা হামলার পর। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামনের দিনগুলোতে যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্পের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালিতে ইরান সমুদ্রের নিচে মাইন স্থাপনের চেষ্টা করেছিল। এর জবাব হিসেবেই মার্কিন বাহিনী ওই হামলা চালায়। তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে প্রণালিতে কোনো মাইন অবশিষ্ট নেই; সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে অথবা বিস্ফোরিত করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, জর্ডানে অবস্থানরত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। তবে সবগুলো ক্ষেপণাস্ত্রই ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ইরান আবারও মার্কিন বাহিনী বা তাদের ঘাঁটিতে হামলা চালালে এর জবাবে আরও শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন ট্রাম্প।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) হামলার চেষ্টার জবাবেই মার্কিন অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের রাজধানী এরবিলে অবস্থিত মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালানো হয়েছে।
ইরান এসব হামলাকে আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তেহরান বলেছে, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যেন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
এভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি এবং সামরিক পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে