শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলো। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত প্রায় ৪০টি এআই টুল আগামী এক বছর স্কুলগুলোতে বন্ধ থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় স্কুল ডিস্ট্রিক্ট হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্কের এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির ব্যবহারকে নিয়ন্ত্রিত ও সঠিক পথে রাখা। নিউইয়র্কের এমন পদক্ষেপের পর লস অ্যাঞ্জেলেসসহ দেশটির আরও কয়েকটি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট তাদের এআই ব্যবহারের নীতিমালা নতুন করে পর্যালোচনা করছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে প্রযুক্তির পাশাপাশি শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মামদানির মতে, সব ধরনের সমস্যা প্রযুক্তির মাধ্যমে সমাধান করার অভ্যাস শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক নয়। বরং সহপাঠীদের সঙ্গে মেলামেশা, শিক্ষকদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি এবং নিজের চিন্তাশক্তি কাজে লাগিয়ে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ শিশুদের দিতে হবে।
নতুন বিধিনিষেধের আওতায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ছয় লাখ শিক্ষার্থী এআই টুল ব্যবহারের সুযোগ হারাবে। তবে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে এআই ব্যবহারের অনুমতি পেতে পারে।
অন্যদিকে শিক্ষকদের জন্য এআই ব্যবহারে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা থাকছে না। পাঠ পরিকল্পনা, ক্লাসের প্রস্তুতি কিংবা সময়সূচি তৈরির মতো প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজে শিক্ষকরা এ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবেন।
নিউইয়র্কের এ সিদ্ধান্ত নিয়ে গুগল, মাইক্রোসফট ও অ্যানথ্রপিকের মতো বড় প্রযুক্তি ও এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটি চালুর পর নিউইয়র্কের সরকারি স্কুলগুলোতে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। একই সময়ে শিক্ষাক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের জন্য নিজস্ব ‘টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট’ বা শিক্ষণ-সহায়ক প্রযুক্তি চালুর কথাও জানিয়েছিল চ্যাটজিপিটির অন্যতম অংশীদার মাইক্রোসফট।
এবার প্রায় ৪০টি এআই টুলের ওপর এক বছরের নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ব্যবহারে নতুন করে সীমারেখা নির্ধারণ করল নিউইয়র্ক সিটি।
সূত্র: রয়টার্স
সদ্য সংবাদ/এসকে