ভারতে কয়লার সরবরাহ ব্যবস্থায় তৈরি হওয়া সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশটির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে। এর প্রভাব বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী ভারতের আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রেও পড়েছে।
কয়লা পরিবহনে রেলপথে জটিলতা ও সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আদানি পাওয়ার।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কয়লাবাহী ট্রেন চলাচলে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিষয়টি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকেও (বিপিডিবি) অবহিত করা হয়েছে।
আদানি পাওয়ার জানিয়েছে, সন্ধ্যার সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দিনের কম চাহিদার সময়ে উৎপাদন কিছুটা কমানো হচ্ছে। একই সঙ্গে কয়লা পরিবহন স্বাভাবিক করতে ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে তারা।
ভারতের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বেশ কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় কম কয়লা মজুত রয়েছে। অনেক কেন্দ্রেই কয়েক দিনের উৎপাদন চালানোর মতো জ্বালানি রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারী বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কয়লা উত্তোলন এবং খনি থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরিবহন প্রক্রিয়ায় ধীরগতি তৈরি হয়েছে। ফলে মজুত থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎকেন্দ্রে সময়মতো কয়লা পৌঁছানো যাচ্ছে না।
এদিকে ভারতের বিদ্যুৎ খাতে কয়লার মজুত কমে যাওয়ায় কিছু কেন্দ্রের নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন এভাবে উৎপাদন চালিয়ে গেলে কারিগরি ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আন্তর্জাতিক বাজারে আমদানি করা কয়লার দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সংকট মোকাবিলায় আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে ভারতের অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র এখনো দেশীয় কয়লা ও রেল পরিবহনের ওপর নির্ভরশীল।
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী আদানি পাওয়ার জানিয়েছে, শুধু গোড্ডা কেন্দ্র নয়, আঞ্চলিকভাবে কয়লা সরবরাহ সংকটের প্রভাব পড়ছে। দেশের অন্যান্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেও আংশিক উৎপাদন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করেছে।
তবে আগামী সময়ে বর্ষার প্রভাব কমে কয়লা উত্তোলন ও পরিবহন স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস