দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চলমান সংকট আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। একই সঙ্গে চলতি মাসের মধ্যেই পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের যে দুর্ভোগ হচ্ছে, সরকার তা উপলব্ধি করছে। মানুষের কষ্টের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার জন্য কাজ চলছে।
তিনি জানান, ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের বিষয়ে শিগগিরই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি চালু হলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড ওয়েল) পরিশোধনের সক্ষমতা বাড়বে। এতে বছরে প্রায় ৪৫ লাখ টন ক্রুড ওয়েল পরিশোধন করা সম্ভব হবে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পায়রা ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে বিদ্যুৎ ঘাটতি কমে আসবে। এর ফলে শিল্পকারখানা ও আবাসিক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত ভোগান্তিও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ বা রুফটপ সোলার ব্যবস্থাকে আরও উৎসাহিত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হলে সরকার তা উপযুক্ত মূল্যে কিনে নেবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
জ্বালানি সরবরাহ প্রসঙ্গে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, কাতারের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশটিতে চুক্তি অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহও স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে চলতি মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সদ্য সংবাদ/এসকে