বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় সৃষ্ট অচলাবস্থার অবসান হয়েছে। ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা সাময়িকভাবে তাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক নেতাদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস পাওয়ার পর তারা কর্মবিরতি স্থগিত করেছেন।
এর আগে, গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন চিকিৎসক আহত হন এবং হাসপাতালের কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর নিরাপত্তার দাবিতে বুধবার থেকে কর্মবিরতিতে যান ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। এতে হাসপাতালের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হলেও জরুরি বিভাগ চালু ছিল।
সংকট নিরসনে বৃহস্পতিবার প্রশাসনের উদ্যোগে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক প্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
এদিকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বগুড়া শহর ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকর্মীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতদের বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন- ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. নাফিউল ইসলাম, একই ওয়ার্ডের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনির হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. প্রান্ত ইসলাম ও সদস্য রাকিবুল হাসান রাকিব। এছাড়া ১৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শিহাবকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৈঠক শেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত পরিস্থিতির সমাধান হয়েছে এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা আবারও স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সদ্য সংবাদ/এসএস