লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেইর আল-জাহরানি এলাকায় সম্ভাব্য বিমান হামলার আগে স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে ইসরায়েলি বাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র এলা ওয়াওয়েয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক সতর্কবার্তায় নির্দিষ্ট একটি ভবন ও এর আশপাশের বাসিন্দাদের অবিলম্বে এলাকা ত্যাগ করতে বলেন।
নিরাপত্তার স্বার্থে ওই ভবন থেকে অন্তত ৩০০ মিটার দূরে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, ভবনটির কাছাকাছি হিজবুল্লাহর একটি অবকাঠামো রয়েছে। সম্ভাব্য হামলায় সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলে জানিয়েছে তারা।
সাধারণত হামলার আগে এ ধরনের সতর্কবার্তাকে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি কমানোর জন্য আগাম নির্দেশনা হিসেবে তুলে ধরে ইসরায়েলি বাহিনী।
এর আগে রোববার দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাতে এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স। আরব সালিমসহ কয়েকটি এলাকায় এসব হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলার জবাব হিসেবে এসব সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। তবে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ইসরায়েলি হামলাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে বেসামরিক স্থাপনা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় জুনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি কাঠামোগত সমঝোতা হয়েছিল। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা রয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি হামলা ও হিজবুল্লাহর পাল্টা সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকায় ওই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় অঞ্চলটিতে আবারও বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নতুন করে বেসামরিক জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে