নির্বাচনের পর বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। ভবিষ্যতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে নতুন মাত্রায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসাডর’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মাইকেল মিলার।
ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতার পরিধি এখন আর শুধু উন্নয়ন সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না তারা। পারস্পরিক বিনিয়োগ, যৌথ অর্থায়ন ও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নেও সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও বহুমুখী করতে ইউরোপীয় বাজারের সঙ্গে দেশটির সংযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন এই কূটনীতিক।
বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের পর বাণিজ্যিক সম্পর্ক কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়, সেটিও ইইউর বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান মাইকেল মিলার। এ ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা যাচাইয়ের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশকে কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ঋণ বা একতরফা নিয়ন্ত্রণের ভিত্তিতে নয়, বরং পারস্পরিক আস্থা ও সমান সুবিধার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়।
বাংলাদেশে ইইউর প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরোর বিভিন্ন প্রকল্প, চুক্তি ও অনুদান চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি সামুদ্রিক নিরাপত্তা, বন্দর সুরক্ষা, মানবপাচার প্রতিরোধ ও উগ্রবাদ মোকাবিলায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান রাষ্ট্রদূত।
অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন মাইকেল মিলার। একই সঙ্গে এই সংকটে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত জানান, ২০১৭ সালের পর থেকে রোহিঙ্গা ও সংশ্লিষ্ট মানবিক কার্যক্রমে বাংলাদেশকে ৫০ কোটি ইউরোর বেশি সহায়তা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ভবিষ্যৎ সহায়তার ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সদ্য সংবাদ/এসএস