চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক পদ থেকে সরিয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে উপসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদকে। অনৈতিক আর্থিক চুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক হওয়া এবং জেলা প্রশাসক পদে নিয়োগ পেতে শত কোটি টাকার চুক্তির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে সালাহউদ্দিন আহমেদকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রত্যাহার করে একই মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। বুধবার বিষয়টি জানাজানি হয়।
এর আগে গত ৯ আগস্ট একটি জাতীয় দৈনিকে ‘চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক সালাহউদ্দিন: ব্যবসায়িক সুবিধা দেওয়ার শর্তে নেন ৪ কোটি টাকা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর অভিযোগের বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৪ নভেম্বর ঢাকার ব্যবসায়ী আহমেদ শাকিল খানের সঙ্গে একটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ। ওই নথিতে তার পদবিসহ স্বাক্ষর রয়েছে।
চুক্তিপত্রে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবসায়িক কাজের জন্য প্রথম পক্ষ সালাহউদ্দিন আহমেদ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চার কোটি টাকা গ্রহণ করেছেন। অর্থের জামানত হিসেবে নিজের সিটি ব্যাংক হিসাবের দুটি চেক দেন তিনি। প্রতিটি চেকের মূল্য ছিল দুই কোটি টাকা। একই সঙ্গে জিম্মাদার হিসেবে তার স্ত্রী লায়লা হাবিবা ও বোন জিনিয়াত খাতুনের জাতীয় পরিচয়পত্রও ওই ব্যবসায়ীকে দেওয়া হয়।
এর পরপরই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত বছরের ১৭ ডিসেম্বরের এক প্রজ্ঞাপনে সালাহউদ্দিন আহমেদকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক পদে বদলি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ২৩ ডিসেম্বর তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক পদে যোগ দেওয়ার কিছুদিন পর চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি পরিচালক (প্রশাসন) স্বাক্ষরিত আদেশে তাকে কন্ট্রোলার অব স্টোরস পদে পদায়ন করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এই পদে দায়িত্ব পালনকালে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক হওয়ার জন্যও উপসচিব পদমর্যাদার এই কর্মকর্তা শত কোটি টাকার চুক্তি করেছিলেন।
সদ্য সংবাদ/ এআর