কী ঘটেছিল ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, জানুন ইতিহাসের সেই অধ্যায়

স
সদ্য সংবাদ ডেস্ক
৭ নভেম্বর, ২০২৬ ০৯:৪৩:০৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাস ছিল চরম রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতার সময়। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে সংঘটিত হয় একাধিক অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থান। এরই ধারাবাহিকতায় ৭ নভেম্বরের সিপাহি বিদ্রোহে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমান। একই দিনে প্রাণ হারান ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ, কর্নেল এ টি এম হায়দার ও কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদা। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতার বিন্যাসে বড় পরিবর্তন আসে।

ঘটনার সূত্রপাত ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যার মধ্য দিয়ে। ওই হত্যাকাণ্ডের পর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন খন্দকার মোশতাক আহমদ। সে সময় সেনাবাহিনীর ভেতরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে কর্তৃত্ব ও নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ ক্রমেই বাড়তে থাকে।

এরপর ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি অংশ অভ্যুত্থান ঘটায়। এ সময় তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঢাকা সেনানিবাসে গৃহবন্দি করা হয়। অভ্যুত্থানের পর খালেদ মোশাররফ সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পান তৎকালীন প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম।

ওই সময় বঙ্গভবনে অবস্থানরত ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থানে জড়িত কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা দেশ ছাড়েন। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে হত্যা করা হয়।

৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের পর সেনানিবাসে সাধারণ সৈনিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। এ পরিস্থিতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সহযোগী সংগঠন বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা। সংগঠনটির নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু তাহের। সৈনিকদের মধ্যে প্রচারপত্র বিতরণ এবং সেনা কর্মকর্তাদের কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান ছড়িয়ে পড়ে।

৬ নভেম্বর দিবাগত রাত থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত সেনানিবাসে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। বিদ্রোহী সৈনিকেরা জিয়াউর রহমানকে তার বাসভবনের বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেন। সেনানিবাসে তখন ‘সিপাহি-সিপাহি ভাই ভাই’ এবং ‘জেনারেল জিয়াউর রহমান জিন্দাবাদ’ স্লোগান শোনা যায়। পরে তাকে সেনানিবাসের একটি মেসে নিয়ে যাওয়া হয়।

অন্যদিকে বিদ্রোহের মুখে খালেদ মোশাররফ, কর্নেল এ টি এম হায়দার ও কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদা বঙ্গভবন ছেড়ে শেরেবাংলা নগরের ১০ম বেঙ্গল রেজিমেন্টে আশ্রয় নেন। সেখানে ৭ নভেম্বর তারা নিহত হন। তাদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনীর ভেতরের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আরও জটিল রূপ নেয়।

জিয়াউর রহমান মুক্ত হওয়ার পর আবু তাহেরের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার সঙ্গে তার অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয় বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। সংগঠনটি সেনাবাহিনীর প্রচলিত কাঠামো পরিবর্তনসহ ১২ দফা দাবি উত্থাপন করেছিল। বিপরীতে জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর বিদ্যমান শৃঙ্খলা ও কাঠামো বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নেন।

৭ নভেম্বরের ঘটনার পর জিয়াউর রহমানের সামরিক নেতৃত্বে অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান দেশের রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসেন।

তবে ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা। কোনো পক্ষ দিনটিকে সিপাহি-জনতার বিপ্লব, কেউ সিপাহি বিদ্রোহ, আবার কেউ সামরিক পাল্টা অভ্যুত্থান হিসেবে বর্ণনা করে। মতভিন্নতা থাকলেও জিয়াউর রহমানের মুক্তি, সামরিক নেতৃত্বে পরিবর্তন এবং তিন সেনা কর্মকর্তার হত্যাকাণ্ড—সব মিলিয়ে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত অধ্যায় হয়ে আছে।

সদ্য সংবাদ/এজে

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. আজ ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস সদ্য. ৭ নভেম্বর উপলক্ষে বাবা-মায়ের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. চাঁদপুরে নিজ বাসা থেকে আটক আ.লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন সদ্য. মানবিক ও নিরাপদ দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির সদ্য. জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে ৭ নভেম্বরের চেতনা ধারণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সদ্য. এক্সের ভুলে তারেক রহমানের নাম অনুবাদে হয়ে গেল হাসিনা, ক্ষুব্ধ জাপানের বাণিজ্যমন্ত্রী সদ্য. রাজধানীতে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে আগুন সদ্য. মোটরসাইকেলসহ সব চালকের জন্য নতুন নির্দেশনা দিল বিআরটিএ সদ্য. ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা সদ্য. ‘জয় বাংলা’সহ কোস্টগার্ডের ৫ জাহাজের নাম পরিবর্তন সদ্য. আজ ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস সদ্য. ৭ নভেম্বর উপলক্ষে বাবা-মায়ের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. চাঁদপুরে নিজ বাসা থেকে আটক আ.লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন সদ্য. মানবিক ও নিরাপদ দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির সদ্য. জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে ৭ নভেম্বরের চেতনা ধারণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সদ্য. এক্সের ভুলে তারেক রহমানের নাম অনুবাদে হয়ে গেল হাসিনা, ক্ষুব্ধ জাপানের বাণিজ্যমন্ত্রী সদ্য. রাজধানীতে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে আগুন সদ্য. মোটরসাইকেলসহ সব চালকের জন্য নতুন নির্দেশনা দিল বিআরটিএ সদ্য. ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা সদ্য. ‘জয় বাংলা’সহ কোস্টগার্ডের ৫ জাহাজের নাম পরিবর্তন