দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষায় রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে কোনো শক্তি যেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা কিংবা মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব থেকে শুরু করে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।
তারেক রহমানের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত গণতান্ত্রিক আন্দোলনগুলোর মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত বিপ্লব দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে ভূমিকা রেখেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। তার ভাষায়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রাম, আর ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান ছিল সেই স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার রক্ষার লড়াই।
বাণীতে তিনি ১৯৭৫, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেন। এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।
জাতীয় স্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই অঙ্গীকার ধারণ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনা ভবিষ্যতে দেশের অগ্রযাত্রায় অনুপ্রেরণা জোগাবে। একই সঙ্গে দিবসটি উপলক্ষে জাতীয়ভাবে নেওয়া সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
সদ্য সংবাদ/এজে