যুদ্ধের ভয়াবহতায় বিপর্যস্ত গাজার শিশুদের চিকিৎসার জন্য এক লাখ পাউন্ডেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার হামজা দেওয়ান চৌধুরী। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। সংগৃহীত অর্থ জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে গাজার শিশুদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কাজে ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তহবিল সংগ্রহের এ তথ্য জানান ইংলিশ ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডের এই ফুটবলার। উদ্যোগটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি, দাতা ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
হামজা জানান, গাজার শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাঁকে সহযোগিতা করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা নুজুম স্পোর্টস। পাশাপাশি সংগৃহীত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘চিলড্রেন নট নাম্বারস’। গাজার যেসব শিশুর বেঁচে থাকার জন্য উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, তাদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরে এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে নুজুম স্পোর্টসের সঙ্গে হামজার যৌথভাবে আয়োজিত একটি দাতব্য অনুষ্ঠান। গত রোববার লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হলে অনুষ্ঠিত ওই আয়োজনে হামজাকে নিয়ে আলোচনা সভার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্রীড়া স্মারক নিলামে তোলা হয়।
নিলামে হামজার লেস্টার সিটির হয়ে এফএ কাপ জয়ের সময়ের জার্সি বিক্রি হয় সাত হাজার পাউন্ডে। আর কমিউনিটি শিল্ডজয়ী পদক বিক্রি হয় তিন হাজার পাউন্ডে। টিকিট বিক্রি ও নিলাম থেকে পাওয়া পুরো অর্থ গাজার শিশুদের সহায়তায় ‘চিলড্রেন নট নাম্বারস’ সংস্থাকে দেওয়া হয়।
হামজা তাঁর বার্তায় বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে এত অর্থ সংগ্রহ করতে পারায় তিনি কৃতজ্ঞ। তবে গাজার মানুষের দুর্ভোগের তুলনায় এই সহায়তা খুবই সামান্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ভবিষ্যতে আরও উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়ে ফিলিস্তিনের মানুষের জন্য শান্তি, শক্তি ও ধৈর্য কামনা করেন এই ফুটবলার।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত নুজুম স্পোর্টস যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি অলাভজনক সংস্থা। পেশাদার ক্রীড়াঙ্গনে মুসলিম খেলোয়াড়দের অধিকার রক্ষা, মানসিক সুস্থতা এবং ধর্মীয় অনুশাসন পালনে সহায়তা করে প্রতিষ্ঠানটি। মুসলিম অ্যাথলেটদের অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করতে সংস্থাটির বিভিন্ন কার্যক্রম রয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস