সম্প্রতি ভুয়া সনদ ব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একাডেমিক সনদের সত্যতা যাচাই প্রক্রিয়া আগের চেয়ে আরও জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহজনক কাগজপত্র শনাক্তে আধুনিক যাচাই পদ্ধতি ব্যবহার এবং প্রয়োজনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতিও রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভাষ্য, সনদ জালিয়াতি কেবল প্রশাসনিক অনিয়ম নয়; এটি শিক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর সরাসরি আঘাত। একজন অযোগ্য ব্যক্তি জাল সনদের মাধ্যমে সুযোগ পেলে প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হন এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়। তাই শুরু থেকেই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা বিদেশি সংস্থা থেকে সনদ যাচাইয়ের অনুরোধ এলে তা সর্বোচ্চ সততার সঙ্গে যাচাই করা হয়। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন সংরক্ষিত ডাটাবেইজে তথ্য মিলিয়ে দেখা হয়। পরে ম্যানুয়ালি রেজিস্ট্রেশন খাতা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া হয়। সবশেষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ইমেইল বা আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে প্রত্যয়ন পাঠানো হয়।
এ পর্যন্ত তিনটি ভুয়া সনদ শনাক্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। সংশ্লিষ্টরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নমুনা প্যাড ও লোগো ব্যবহার করলেও তারা প্রকৃত শিক্ষার্থী ছিলেন না। এর মধ্যে দুটি জাল সনদ বিদেশের দুটি প্রতিষ্ঠানে এবং একটি বাংলাদেশের একটি সনামধন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্রেডিট যোগ করে ব্যবহার করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিশ্চিতকরণ চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে জাল হিসেবে অবহিত করা হয়েছে।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের ডেপুটি কন্ট্রোলার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সনদ প্রদান প্রক্রিয়াতেও কঠোরতা বাড়ানো হয়েছে। এখন আর প্রতিনিধির মাধ্যমে সনদ হস্তান্তর করা হয় না; সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে নিজে উপস্থিত হয়ে সনদ গ্রহণ করতে হয়। বাইরে কেউ ভুয়া সনদ ব্যবহার করলে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান যাচাইয়ের জন্য যোগাযোগ করলে দ্রুত যাচাই করে আনুষ্ঠানিক প্রত্যয়ন পাঠানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং কন্ট্রোলার অফ দি এক্সামিনেশন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, 'আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ভুয়া সনদ ব্যবহার করার সুযোগ নেই।তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আমরা দুই-তিন ধাপে যাচাই করে থাকি।আমাদের শিক্ষার্থীরাও যাতে এমন উপায় অবলম্বন না করে সেই আশা ব্যক্ত করছি।'
শিক্ষার্থীদের প্রতিও সতর্কবার্তা দিয়েছে প্রশাসন। কোনো অবস্থাতেই ভুয়া তথ্য বা জাল সনদ ব্যবহার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, এ ধরনের অনিয়মের তথ্য পেলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
সনদের মর্যাদা ও শিক্ষাব্যবস্থার আস্থা রক্ষায় নোবিপ্রবি প্রশাসনের এ কঠোর অবস্থান ইতোমধ্যেই ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।