বয়সের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটে চলেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ৪০ পেরোনো পর্তুগিজ তারকা একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন, আর পুরস্কারে ভরছে তাঁর ট্রফি ক্যাবিনেট। তবে তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য এখনো অপূর্ণ—প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ১০০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করা। এই লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ফুটবল ছাড়ছেন না বলেই স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন রোনালদো।
দুই দশকেরও বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত রোনালদোর গোলসংখ্যা ৯৫৬। পর্তুগালের জার্সিতে ১৪৩ গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে তিনি এখনো সর্বোচ্চ গোলদাতা। রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, জুভেন্টাস ও আল নাসরের হয়ে গোলের শতক পূরণ করেছেন এই ফরোয়ার্ড। বয়স ৪০ পেরোলেও মাঠে তাঁর ক্ষিপ্রতা ও ফিটনেস দেখে সেটা বোঝার উপায় নেই।
দুবাইয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গ্রহণের পর আবারও নিজের লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন রোনালদো। তিনি বলেন, তাঁর লক্ষ্য সবারই জানা—আরও শিরোপা জেতা এবং ১০০০ গোলের সংখ্যাটা স্পর্শ করা। বড় কোনো চোট না পেলে সেই মাইলফলক ছুঁতে পারবেন বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।
আল নাসরের হয়ে ২০২৫–২৬ মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৪ ম্যাচে ১৩ গোল করেছেন রোনালদো, পাশাপাশি সতীর্থদের জন্য তৈরি করেছেন তিনটি গোলের সুযোগ। পরশু তাঁর জোড়া গোলে আল আখদুদকে ৩–০ ব্যবধানে হারিয়েছে আল নাসর, যা সৌদি প্রো লিগে ক্লাবটির টানা ১০ ম্যাচ জয়ের কীর্তিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
দুবাইয়ে পুরস্কার গ্রহণের সময় সরাসরি না বললেও বয়সের প্রসঙ্গ টেনে নিজের ভেতরের ক্ষুধার কথাই তুলে ধরেন রোনালদো। তিনি বলেন, খেলা চালিয়ে যাওয়া সহজ নয়, তবু তিনি অনুপ্রাণিত। তাঁর প্রত্যাশা এখনো অনেক বড়। মধ্যপ্রাচ্য হোক বা ইউরোপ, কোথায় খেলছেন সেটা তাঁর কাছে মুখ্য নয়—খেলাটা উপভোগ করাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল সকার অ্যাওয়ার্ডের রাতটি ছিল মূলত রোনালদো ও উসমান দেম্বেলের জন্য স্মরণীয়। ব্যালন ডি’অর, ফিফার বর্ষসেরা খেলোয়াড় এবং গ্লোব সকার অ্যাওয়ার্ডসে সেরা ফুটবলার—এই তিনটি বড় পুরস্কার জিতেছেন দেম্বেলে। পিএসজির ইতিহাসে প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ে কোচ লুইস এনরিকের পাশাপাশি দেম্বেলে ও ডেজিরে ডুয়ের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
এই আসরে সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান পিএসজির ডেজিরে ডুয়ে। সেরা ফরোয়ার্ড নির্বাচিত হন বার্সেলোনার লামিন ইয়ামাল। সেরা কোচের স্বীকৃতি পান পিএসজির লুইস এনরিক। মধ্যপ্রাচ্যের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ওঠে আল নাসরের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর হাতে, আর সেরা ক্লাব নির্বাচিত হয় পিএসজি।