দীর্ঘ ৫১ বছর পর লস অ্যাঞ্জেলেসের আকাশে দেখা গেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে সুরক্ষিত ও রহস্যময় বিমান বোয়িং ই–৪বি ‘নাইটওয়াচ’, যা পরিচিত ‘ডুমসডে প্লেন’ নামে। গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে বিমানটি লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পারমাণবিক যুদ্ধ আসন্ন কি না—এ নিয়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা।
ডুমসডে প্লেনটি মূলত পারমাণবিক যুদ্ধ বা জাতীয় পর্যায়ের বড় ধরনের বিপর্যয়ের সময় আকাশ থেকেই সরকার পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত একটি ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার। ফলে হঠাৎ এই বিমানের উপস্থিতি অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
তবে পেন্টাগন ও মার্কিন বিমানবাহিনী জানিয়েছে, এটি কোনো জরুরি বা সংকটজনিত মিশনে নয়। বিমানটি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে বহন করেই লস অ্যাঞ্জেলেসে এসেছে।
লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ বর্তমানে ‘আর্সেনাল অব ফ্রিডম’ নামে মাসব্যাপী একটি দেশব্যাপী সফরে রয়েছেন। এই সফরের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্পকে চাঙা করা এবং নতুন করে সামরিক বাহিনীতে লোকবল নিয়োগে উৎসাহ দেওয়া।
লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থানকালে তিনি ‘রকেট ল্যাব’ নামের একটি মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন এবং ইউসিএলএতে ক্যাডেটদের সঙ্গে শারীরিক কসরতেও অংশ নেন। তাঁর সঙ্গে উগ্র ডানপন্থী কর্মী লরা লুমারসহ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীও একই বিমানে সফর করছেন বলে জানা গেছে।
কেন একে ‘কেয়ামতের বিমান’ বলা হয়
বোয়িং ৭৪৭–২০০ মডেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ই–৪বি ‘নাইটওয়াচ’ সাধারণ কোনো বিমান নয়। এটি পারমাণবিক বিস্ফোরণজনিত ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পালস ও প্রচণ্ড তাপ সহ্য করতে সক্ষম। ভেতরে রয়েছে অত্যাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, কনফারেন্স কক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ অপারেশন সেন্টার। জরুরি পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা এখান থেকেই যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশ দিতে পারেন।
এ ছাড়া আকাশে জ্বালানি নেওয়ার সুবিধা থাকায় বিমানটি টানা কয়েক দিন আকাশে অবস্থান করতে পারে। বর্তমানে মার্কিন বিমানবাহিনীর কাছে এমন মাত্র চারটি বিমান রয়েছে, যার অন্তত একটি সব সময় প্রস্তুত রাখা হয়।
বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা—বিশেষ করে ইরানের বিক্ষোভ ও যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটে এই বিমানের উপস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, ৫১ বছর পর হঠাৎ এখন কেন এই বিমান দেখা গেল? আমরা কি বড় কোনো সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে?
যদিও পেন্টাগন এটিকে একটি নিয়মিত সফর হিসেবেই ব্যাখ্যা করছে, তবে সাধারণ সরকারি বিমানের পরিবর্তে কেন এই অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও অতি-সুরক্ষিত ডুমসডে প্লেন ব্যবহার করা হলো—সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি কর্তৃপক্ষ।