দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার জানিয়েছে, পাঁচ সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থাপনা অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫৩ হাজার ৪৯৯ জন বিদেশি নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বা নির্বাসিত করা হয়েছে।
রোববার (১৩ জুলাই) প্রিটোরিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির বিচার ও সাংবিধানিক উন্নয়নমন্ত্রী মামোলোকো কুবাইয়ি এ তথ্য জানান। ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের বেশিরভাগই মালাউই, জিম্বাবুয়ে ও মোজাম্বিকের নাগরিক।
সম্প্রতি অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন ও লুটপাটের ঘটনার পর নথিপত্রহীন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বছরের অন্যতম বড় অভিযান শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা। অভিযান এখনো চলমান থাকায় নির্বাসিতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সরকার।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, কঠোর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ অভিবাসীদের গণহারে ফেরত পাঠাতে হবে। তারা উচ্চ বেকারত্ব, অপরাধ বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবার ওপর চাপের জন্য অভিবাসীদের দায়ী করছেন।
তবে জাতিসংঘ এ ধরনের অবস্থানের সমালোচনা করে অভিবাসীদের দেশের আর্থ-সামাজিক সমস্যার জন্য দায়ী না করার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, অভিবাসীদের বলির পাঁঠা বানানো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
মন্ত্রী মামোলোকো কুবাইয়ি বলেন, সরকার এমন একটি সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে জনগণের উদ্বেগের পাশাপাশি অভিবাসীদের মানবাধিকার ও মর্যাদাও নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও জানান, অভিযানের সময় এমন কয়েকজন ব্যক্তিকেও আটক করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন অপরাধে পুলিশ খোঁজ করছিল। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে অভিবাসীদের সন্দেহে বাড়ি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অননুমোদিত তল্লাশি না চালায়।
এদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা অভিবাসন নিয়ে জনমতের উদ্বেগের কথা স্বীকার করলেও অভিবাসীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং নাগরিকদের আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।