বেশ কিছুদিন ধরে নিজের বিরুদ্ধে ‘সেক্স ডাক্তার’ ও ‘যৌন ডাক্তার’ বলে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ করেছেন ডা. তাসনিম জারা। তার দাবি, তাকে হেয় ও বিব্রত করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এসব প্রচারণা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে বিভিন্ন ওষুধ, স্লিমিং পণ্য ও চিকিৎসাসেবা বিক্রির অভিযোগও করেছেন তিনি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ডা. তাসনিম জারা। সেখানে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে কিছু আওয়ামী লীগ কর্মী তাকে ‘সেক্স ডাক্তার’ ও ‘যৌন ডাক্তার’ বলে প্রচার করছেন। বিষয়টিকে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি মেডিসিনের চিকিৎসক।
তবে এতদিন তিনি এ ধরনের প্রচারণার কোনো জবাব দেননি বলেও জানান। এর পেছনে দুটি কারণ উল্লেখ করে ডা. তাসনিম জারা বলেন, ‘আমি যদি ব্যস্ত হয়ে বলতাম, না না, আমি ওরকম ডাক্তার নই তাতে হয়তো ওনাদের বিকৃত ধারণাটাকেই সায় দেওয়া হতো যে যৌনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হওয়া বুঝি সত্যিই লজ্জার।’
যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা চিকিৎসকদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের এমন অনেক ব্যক্তিগত সমস্যা রয়েছে, যা অনেক সময় মা-বাবা, বন্ধু কিংবা জীবনসঙ্গীর কাছেও বলা সম্ভব হয় না। এসব সমস্যায় যৌনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরাই মানুষের পাশে দাঁড়ান। তাদের চিকিৎসায় অনেক দাম্পত্য জীবনের জটিলতা দূর হয়, নিঃসন্তান দম্পতি সন্তান লাভের সুযোগ পান এবং হতাশাগ্রস্ত মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।

তার ভাষায়, ‘এমন মহান পেশার নাম গালি হবে কেন?’
অন্যদিকে যৌন সমস্যা নিয়ে মানুষের মধ্যে থাকা সামাজিক সংকোচ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলাকে লজ্জার বিষয় হিসেবে দেখার কারণে অনেক মানুষ প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। ফলে অনেকে হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে ভুল চিকিৎসা ও ওষুধের শিকার হন এবং বছরের পর বছর নীরবে কষ্ট সহ্য করেন।
ডা. তাসনিম জারা বলেন, ‘যৌন সমস্যা নিয়ে কথা বলতে নেই’ এমন ধারণার কারণে অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তার মতে, এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি এবং প্রয়োজন হলে সংকোচ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে ‘যৌন ডাক্তার এখন দেশ চালাবে!’ এ ধরনের মন্তব্যও তার চোখে পড়েছে। এসব মন্তব্যকে তিনি অজ্ঞতা ও কূপমণ্ডূকতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর হঠাৎ কেন বিষয়টি নিয়ে লিখলেন, সে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি।
ডা. তাসনিম জারার দাবি, গতকাল রাতে এক শুভাকাঙ্ক্ষী তাকে একটি স্ক্রিনশট পাঠান। সেখানে তিনি দেখতে পান, তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে প্রায় ১৬০টি বিজ্ঞাপন চালানো হচ্ছে।
তার অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে হাজার হাজার ডলার খরচ করে তার ছবির সঙ্গে অশ্লীল বক্তব্য যুক্ত করে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। পরে ওই বিজ্ঞাপনগুলোর স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দিয়ে এমন একটি ধারণা তৈরি করা হচ্ছে যে, তিনি নিজেই এসব পণ্য বা চিকিৎসা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত। তার ভাষায়, এটি একটি সাজানো ‘নাটক’, যার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রমাণ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
এর সুযোগ নিয়ে একটি প্রতারক চক্র তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, স্লিমিং পণ্য এবং নানা ধরনের চিকিৎসা বা ট্রিটমেন্ট বিক্রি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নিজের নামে প্রচারিত এসব বিজ্ঞাপন থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি কোনো ওষুধ বিক্রি করেন না। কোনো স্লিমিং পণ্যও বিক্রি করেন না এবং কোনো ধরনের চিকিৎসা বা ট্রিটমেন্ট বিক্রি করেন না। তার নাম বা ছবি ব্যবহার করে কোনো পণ্য বা চিকিৎসাসেবা বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখা গেলে সেটিকে প্রতারণা হিসেবে ধরে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ ধরনের বিজ্ঞাপনের নিচে প্রতারক চক্রের সদস্যরা ভুয়া মন্তব্য করে পণ্যের প্রচারণা চালান বলেও দাবি করেন ওই চিকিৎসক। তিনি বলেন, এসব পণ্য না কেনার পাশাপাশি পরিচিতজনদেরও এ বিষয়ে সতর্ক করা প্রয়োজন।
পোস্টে ‘Shohay Pregnancy’ নামের একটি অ্যাপের বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন তিনি। তার দাবি, গর্ভবতী মায়েদের জন্য তৈরি এই অ্যাপটিতে কোনো পণ্য বিক্রি করা হয় না। অধিকাংশ মানুষ অ্যাপটি বিনামূল্যে ব্যবহার করেন এবং কেউ কেউ এর প্রিমিয়াম ভার্সন কিনে ব্যবহার করেন।
তাই তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে কোনো ওষুধ, চিকিৎসা বা পণ্যের বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখে পড়লে তা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করলেও অনলাইন প্রতারণার কৌশল সম্পর্কে যাদের ধারণা কম, তাদের সতর্ক করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানান।
পোস্টের শেষাংশে যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা চিকিৎসকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, যৌনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোনো সমস্যা হলে চিকিৎসকের কাছে যেতে সংকোচ করা উচিত নয়। অন্যান্য অনেক রোগের মতো এ ক্ষেত্রেও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হলে সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
নিজের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং নাম-ছবি ব্যবহার করে প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সদ্য সংবাদ/এসএস