বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-২ এর তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এটি ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে ঘোষিত প্রথম রায় হিসেবে বিচার বিভাগে ইতিহাস গড়ল।
মামলায় গ্রেপ্তার আট আসামির মধ্যে রয়েছেন সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের জুলাই-অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায়ে আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে সাতজন নিহত হন। তাদের লাশ ভ্যানে স্তূপ করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নিহতরা হলেন সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজিল মাহমুদ সুজয়, বায়োজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম।
প্রসিকিউশন ১৬ আসামির বিরুদ্ধে ২ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে, যা সঙ্গে ছিল ৩১৩ পৃষ্ঠার তথ্যসূত্র, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ ও দুটি পেনড্রাইভ। বিচার চলাকালীন উপস্থিত সাত আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়েছে, এ ধরনের নিষ্ঠুর ও অমানবিক অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করাই আইনের লক্ষ্য। নিহতদের পরিবার ও বিচারপ্রার্থী জনগণের দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। স্বজনরা পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।