ভেনেজুয়েলার তেল খাতে মার্কিন কোম্পানিগুলো পুনরায় প্রবেশের সুযোগ পেলে বিশ্বের মোট তেল উৎপাদনের অর্ধেকের বেশি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তেলের মজুত রয়েছে। তবে ২০০০–এর দশকে সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের শাসনামলে দেশটিতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর সম্পদ জাতীয়করণ করা হয়। ট্রাম্প এই জাতীয়করণকে ‘অন্যায্য’ আখ্যা দিয়ে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি ধসে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মাদক পাচারের অভিযোগ এনে যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে কারাকাস থেকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে শুক্রবার হোয়াইট হাউসে এক্সনমোবিল, শেভরন ও কনোকোফিলিপসসহ বড় তেল কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প।
বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছে এবং দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে মার্কিন কোম্পানিগুলো। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় তেল উৎপাদন এমন পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের তেল একত্র হলে বিশ্বের প্রায় ৫৫ শতাংশ তেল যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
বৈঠক শেষে ট্রাম্প জানান, মার্কিন কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার তেল খাতে অন্তত ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে।
তবে এক্সনমোবিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড্যারেন উডস বলেন, ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতের আইন-কানুন ও কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তন না এলে সেখানে বিনিয়োগ সম্ভব নয়।
ভেনেজুয়েলা সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে তেল খাতে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। তবে প্রেসিডেন্ট মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকা দেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ সব পক্ষের সঙ্গে জ্বালানি প্রকল্পে কাজ করতে তারা আগ্রহী।
এদিকে ভেনেজুয়েলার অনেক কর্মকর্তা ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ‘চুরি’ করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তারা মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছেন।
গত সোমবার মার্কিন আদালতে হাজির হলে নিকোলা মাদুরো তাঁর বিরুদ্ধে আনা মাদক পাচার ও অস্ত্র সংক্রান্ত সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। সূত্র: আরটি