রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) গুম ও হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
জবানবন্দিতে সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, 'বেসামরিক ব্যক্তিদের তুলে এনে ডিজিএফআইয়ের সেলে আটকে রাখার প্রবণতা একপর্যায়ে একটি অভ্যাসে পরিণত হয়। এর ফলে যেকোনো ব্যক্তিকে আটক করে ইচ্ছামতো আচরণ করা যায়, এমন এক ধরনের মানসিক বাধা ভেঙে পড়ে এবং সংশ্লিষ্টরা নিজেদের কর্মকাণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করেন।'
তিনি আরও বলেন, 'ওই সময় বিভিন্ন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের নির্দেশে বিএনপির সিনিয়র নেতা তারেক রহমানকেও তুলে এনে ডিজিএফআইয়ের হেফাজতে অমানবিক নির্যাতন করা হয়।'
জবানবন্দিতে সেনাবাহিনী পরিচালিত ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ইকবাল করিম ভূঁইয়া।
শুনানির শুরুতে মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর শাইখ মাহদীসহ অন্যান্যরা। আসামিপক্ষে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাজনীন নাহার ও মুনসুরুল হক চৌধুরী।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়। সেই অনুযায়ী প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া আদালতে জবানবন্দি দিচ্ছেন।