একই সঙ্গে আদালত জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন—কেন তাকে স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। আবুল সরকারের আইনজীবী গাজী কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ছয় মাসের জামিন মঞ্জুর হওয়ায় তার মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।
এর আগে বিচারিক আদালতে দুই দফা জামিন আবেদন করা হলেও গত বছরের ২৩ নভেম্বর ও ৮ ডিসেম্বর তা নামঞ্জুর করা হয়েছিল।
মামলার সূত্রপাত গত বছরের ৪ নভেম্বর মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাবরা এলাকায় ‘খালা পাগলীর মেলা’ উপলক্ষে আয়োজিত একটি পালাগানের আসর থেকে। অভিযোগ ওঠে, ওই অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের সময় আবুল সরকার ধর্ম অবমাননাকর বক্তব্য দেন। পরে সেই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর ১৯ নভেম্বর রাতে মাদারীপুরে একটি গানের আসর থেকে মানিকগঞ্জ ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে আটক করে। পরবর্তীতে ঘিওর উপজেলার মুফতি মো. আবদুল্লাহ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায়।
এরপর থেকে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে রাখা হয়। এ সময় বাউল সমাজ ও সংস্কৃতিকর্মীরা তার মুক্তির দাবি জানালেও প্রাথমিকভাবে তিনি জামিন পাননি।
হাইকোর্টের সর্বশেষ এই আদেশে কয়েক মাস পর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন আবুল সরকার। তার আইনজীবীর দাবি, বাউল দর্শনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে করা বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল কি না, সেটিও আদালতে বিবেচনায় আনা হচ্ছে।
জামিনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মানিকগঞ্জ, মাদারীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পী মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে স্থায়ী জামিনের বিষয়টি আদালতের জারি করা রুলের জবাবের ওপর নির্ভর করবে।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে ঢাকা বা মানিকগঞ্জ কারাগার থেকে তার দ্রুত মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।