নিষেধাজ্ঞার চাপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান আক্রমণাত্মক অবস্থানের মধ্যেও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে, তবে তিনি কোনো বাংকারে লুকিয়ে নেই—এ কথা জানিয়েছেন ভারতের মুম্বাইয়ে নিযুক্ত ইরানের কনসাল জেনারেল।
অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরবর্তীতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। এ প্রসঙ্গে শনিবার এনডিটিভির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে ইরানের কনসাল জেনারেল সাঈদ রেজা মোসায়েব মোতলাঘ বলেন, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানে এই বিক্ষোভ উসকে দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞার হুমকি থাকা সত্ত্বেও ইরান ও ভারত উভয় দেশই পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটিকে মোতলাঘ বলেন, ইরানকে অভ্যন্তরীণ সংকটে জর্জরিত রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। তিনি দাবি করেন, ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের প্রতি নমনীয় ও সংযত আচরণ করেছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৮ জানুয়ারি ও পরবর্তী সময়ে ইরানের বাইরে অবস্থানরত শক্তির কাছ থেকে নির্দেশ পেয়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো বড় ও ছোট শহরের বিভিন্ন স্থানে ষড়যন্ত্র ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড শুরু করে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়। এসব ঘটনায় মোট ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হন বলে তিনি দাবি করেন। নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জন সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ৬৯০ জন সন্ত্রাসী।
মোসায়েব মোতলাঘ বলেন, বিক্ষোভে বিদেশি নাগরিকদের সম্পৃক্ততা ছিল প্রায় নেই বললেই চলে। তবে ইরান সরকারের কাছে এমন গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে, যা অনুযায়ী কয়েকজন বিক্ষোভকারী বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিলেন বা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়েছিলেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি পাঠানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইরান যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তার দাবি, দেশটি এর আগেও যেকোনো ধরনের আগ্রাসন প্রতিহত করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধ এবং চলমান সন্ত্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধই এর প্রমাণ।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ ও জনগণের সহযোগিতায় মাত্র দুই দিনের মধ্যেই অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। একইভাবে কেউ যদি ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিতে চায়, তবে দেশটি পূর্ণ শক্তি দিয়ে তার জবাব দিতে প্রস্তুত।
বিক্ষোভের সময় ইরানে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হয়। এ প্রসঙ্গে কনসাল জেনারেল বলেন, পরিস্থিতির কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, কারণ বিদেশি শক্তিগুলো ইন্টারনেট ব্যবহার করে অস্থিরতা উসকে দিচ্ছিল এবং ইরানে সাইবার হামলাও চালানো হয়েছিল। তিনি জানান, বর্তমানে ইন্টারনেট সেবার উন্নতি হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পুরোপুরি সেবা চালু করার আশ্বাস দিয়েছেন।