ইয়ুম কিপ্পুর উপলক্ষ্যে জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে গিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সেখানে তিনি সরাসরি মসজিদে প্রবেশ না করে ওয়েস্টার্ন ওয়ালে প্রার্থনায় অংশ নেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইসরায়েলি সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী এবং বিপুলসংখ্যক ইহুদি নাগরিকও ওই এলাকায় উপস্থিত ছিলেন।
ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিন ইয়ুম কিপ্পুরকে কেন্দ্র করে ওয়েস্টার্ন ওয়ালে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ সমবেত হন। ধর্মীয় আচার পালনের অংশ হিসেবে সেখানে প্রার্থনা করেন তারা। এ উপলক্ষ্যেই নেতানিয়াহু সেখানে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নেতানিয়াহুর এই সফরকে কেন্দ্র করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আল-আকসা মুসলিমদের পবিত্র স্থান এবং সেখানে অন্য কোনো পক্ষের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে, ওয়েস্টার্ন ওয়ালকে ইহুদিরা তাদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান হিসেবে বিবেচনা করে। ইহুদি ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রাচীন মন্দিরের অবশিষ্ট অংশের সঙ্গে এই স্থানটির ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ অবশ্য ওয়েস্টার্ন ওয়ালকে আল-আকসা মসজিদ কমপ্লেক্সের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, মেরাজের রাতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাহন বুরাককে এই স্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত স্থানে বাঁধা হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওয়েস্টার্ন ওয়ালে প্রার্থনার সময় নেতানিয়াহু ইসরায়েলি সেনাদের জন্য মঙ্গল কামনা করেন এবং ইহুদিদের নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানান।
আল-আকসা প্রাঙ্গণকে ঘিরে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। ঐতিহাসিক স্থাপনাটির নিয়ন্ত্রণ ও সেখানে প্রবেশের অধিকার নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানও পরস্পরবিরোধী।
আনাদোলুর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৩ সালের পর থেকে ইসরায়েলি নাগরিকদের আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এর আগে তাদের প্রবেশে বিভিন্ন বিধিনিষেধ ছিল।
আল-আকসা ও এর আশপাশের পবিত্র স্থানগুলোকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের পদক্ষেপই ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিদের মধ্যে দ্রুত উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। ফলে নেতানিয়াহুর এই সফরও নতুন করে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস