অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে চালানো ইসরায়েলি আগ্রাসনে পুরো উপত্যকা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গতবছর ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও গাজাবাসীর ওপর হামলা থামেনি। বরং যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণ ও ড্রোন হামলায় হতাহত হচ্ছে বেসামরিক মানুষ।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি এবং ইউএন প্রজেক্ট সার্ভিস অফিসের (ইউএনওপিএস) নির্বাহী পরিচালক জর্জ মোরেইরা দ্য সিলভা এক বিবৃতিতে জানান, দুই বছরের বেশি আগ্রাসনে গাজায় ৬ কোটি টনের বেশি ধ্বংসস্তূপ জমেছে। এই বিপুল ধ্বংসাবশেষ অপসারণে সাত বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে।
গাজা সফর শেষে তিনি বলেন, 'মানবিক সংকট সেখানে আরও গভীর হয়েছে। গাজাবাসী চরম ক্লান্ত, আতঙ্কিত ও অসহনীয় চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এর সঙ্গে তীব্র শীত ও ভারী বৃষ্টি মানুষের দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে।'
জর্জ মোরেইরা দ্য সিলভা জানান, গাজার ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ এতটাই বেশি যে তা সরাতে অন্তত তিন হাজার কনটেইনার জাহাজ প্রয়োজন হবে। বর্তমানে গড়ে প্রতিটি মানুষের আশপাশে প্রায় ৩০ টন ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে।
এদিকে, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। শুক্রবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে এক বৃদ্ধা নিহত হন। একই দিনে উত্তর গাজার বাইত লাহিয়ায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় প্রাণ হারায় ১০ বছর বয়সি এক শিশুকন্যা।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ১২ জন এবং আহত হয়েছেন ১৮ জন। পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৪৬৩ জন নিহত, ১ হাজার ২৬৯ জন আহত এবং ৭১২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা আগ্রাসনে গাজায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৪৫৫ জনে, আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৩৪৭ জন।
এর মধ্যেই গাজা নিয়ে শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরুর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার পরিস্থিতি তদারকি ও শাসনের জন্য ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের নিয়ে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর সদস্য নির্বাচন করা হয়েছে। শিগগিরই তাদের নাম প্রকাশ করা হবে।
অন্য এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে অবিলম্বে নিরস্ত্র হতে হবে। তিনি বলেন, হামাসকে তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শেষ মরদেহ ইসরাইলে ফেরত দিতে হবে এবং কোনো বিলম্ব ছাড়াই সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে শর্ত অনুযায়ী গাজা থেকে সব জীবিত জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হলেও এখনো একজন জিম্মির মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। তবে ইসরায়েল নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী হামলা বন্ধ করেনি এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা গাজায় প্রবেশেও বাধা দিচ্ছে।
যুদ্ধবিরতির
দ্বিতীয় ধাপে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামীদের নিরস্ত্রীকরণের দাবি উঠলেও, গাজা ইসরায়েলের
দখলে থাকা অবস্থায় অস্ত্র সমর্পণে রাজি নয় ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো।